26.3 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

অসুস্থ নারীকে ঋণ পরিশোধের চাপ দিয়ে বিআরডিবি অফিসে তালাবদ্ধ রাখার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) এক নারী মাঠ সংগঠকের বিরুদ্ধে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় অসুস্থ এক নারীকেই অফিসে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তা বাজারে গিয়ে নামাজ পড়েন ও ওষুধ খেলেন বলে ভুক্তভোগী নিজেই জানিয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জীবননগর বিআরডিবি কার্যালয়ে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী নুরুন নাহার ১৪ মাস আগে বিআরডিবি থেকে তিন লাখ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। তার ঋণের কিস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি তার ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে অফিসে গেলে পুরো টাকা না দেওয়ায় তাকে অফিসের বারান্দায় তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নুরুন নাহারের ছোট ছেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মা অসুস্থ। অনেক কষ্টে ১০ হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তারা বললো পুরো টাকা না দিলে কিছু হবে না। এরপর আমার মাকে অফিসের বারান্দায় তালা দিয়ে রেখে যায়।”

অভিযোগের জবাবে মাঠ সংগঠক আবেদা খাতুন প্রথমে বলেন, “তিনি কিস্তির টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও টাকা দেননি। অফিস থেকে আমার বেতন বন্ধ করে দিয়েছে।” পরে পুলিশকে দেয়া বয়ানেও তিনি স্বীকার করেছেন, “আমি ওনাকে অফিসে রেখে বাজারে গিয়েছিলাম। এরপর আমার রুমে গিয়ে নামাজ পড়েছি, ওষুধ খেয়েছি। এখন অফিসে এসে দেখি এত মানুষ জমে গেছে। এখুনি তালা খুলে দিচ্ছি।”

অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় নুরুন নাহার জানান, “আমি বলেছি, সব টাকা দিয়ে দেবো। এখন একসাথে দিতে পারছি না। আমি অসুস্থ—তবুও আমাকে তালাবদ্ধ করে রেখে চলে গেছে। আমাকে বাথরুমে ঢুকাতে চেয়েছিলো, সেখানে আটকে রাখবে বলে। আমি না গেলে এখানেই আটকে রেখে তালা মেরে চলে গিয়েছে।” কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

স্থানীয়রা খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা খুলে তাকে উদ্ধার করে।

জীবননগর উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা জামিল আখতার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি তৎক্ষণাৎ অফিসে ছুটে আসি। এটি অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন বিশ্বাসের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: চুয়াডাঙ্গার উথলী স্টেশনে ট্রেন আটকে টিটিইকে মারধরের অভিযোগ

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন