যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণার পর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রণীত বাণিজ্য আইন (ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪)-এর ১২২ ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করা করা হয়েছে।
আগামী ১৫০ দিন বিশ্বের সব দেশের ওপর এই শুল্কই কার্যকর থাকবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ক একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো আইন কিংবা আইনের ধারার বলে আগের শুল্ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা যায় কি না— সে বিষয়ে অনুসন্ধান করতে নিজের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশও দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমাদের বিকল্প আছে, চমৎকার সব বিকল্প আছে। এসব বিকল্প ব্যবহার করা হলে আরও বেশি অর্থ আসবে। আমরা আরও বেশি অর্থ আদায় করতে পারব এবং আরও শক্তিশালী হবো।”
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রণীত জরুরি অর্থনীতি আইন (ইন্টারন্যাশনাল ইমরার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট- আইইপিএ)-এর আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নীতি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে— এমন সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করেন তিনি। পরবর্তীতে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময়ে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’-কে (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) হাতিয়ার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের এই শুল্কনীতির ফলে গত প্রায় এক বছরে শুধু শুল্ক থেকে অতিরিক্ত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলার উপার্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছেন, এতদিন ইন্টারন্যাশনাল ইমরার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৭ আইনটি বিধি বহির্ভূতভাবে ব্যবহার করে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে এই আইনের আওতায় যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে— তা অবৈধ।
অবশ্য এই অবৈধ শুল্ক থেকে উপার্জিত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলারের কী হবে— সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আদলত দেননি, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে নিম্ন আদালতগুলো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের ওপরেও বিষয়টি ছাড়া হতে পারে।
বিশেষজ্ঞেরা আরও মনে করছেন, যারা ট্রাম্প প্রশাসনকে শুল্কবাবদ দেওয়া টাকা ফেরত চান, তাঁদের মামলা করতে হবে আমেরিকার আদালতে।
ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর হাজারের বেশি সংস্থা টাকা ফেরতের জন্য আইনি লড়াই শুরু করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, শিগগিরই অন্য কোনো আইনের আওতায় দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্ক ফিরিয়ে আনবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এ ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
পড়ুন:লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা, হিজবুল্লাহ কমান্ডারসহ নিহত ১২
দেখুন:যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: কোন দেশ কত পেলো? |
ইমি/


