জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করেই মূলত আন্দোলন জমিয়ে তুলেন সমন্বয়করা । তবে হঠাৎ ফেইসবুক আইডি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নাগরিক কমিটির সংগঠক সারজিস আলম সহ বেশ কয়েকজনের।অনেকেই বলছেন নতুন কোন ষড়যন্ত্র।
আইডি নষ্ট হল নাকি নিজেরাই ডিজেবল করে রেখেছেন সমন্বয়করা?ডিজেবল করে রাখলে কেন’ই বা হঠাৎ ডিজেবল করলেন? এ নিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নানা প্রশ্নে সয়লব।বুধবার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল ফেইসবুক গ্রুপে জানানো হয় আইডি ডিজেবলের কারন।
এদিকে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ফেইসবুক আইডিও বুধবার রাত সাড়ে দশটা থেকে আর পাওয়া যায়নি। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়েদ আবদুল্লাহ এ জন্য আওয়ামী আইটি সেলের সাইবার হামলাকারীরাদের দায়ী করেছেন।
নতুন বছরের শুরুতেই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বৈষম্যবুরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।কিন্তু কি এই চ্যালেঞ্জ?গত বৃহস্পতিবার অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাইয়েদ আবদুল্লাহর ফেইসবুক আইডি ডিজেবল করে দেয়া হয় মেটার পক্ষ থেকে।এরপর একে একে কয়েকজন সমন্বয়কের আইডি ডিজেবল করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়।পরে নিরাপত্তাজনিত কারনে হাসনাত আবদুল্লাহ, সার্জিস আলম ও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ নিজেরাই নিজেদের আইডি ডিএক্টিভ করে রেখেছেন বলে জানা গেছে ।
সাইয়েদ আবদুল্লাহ গণমাধ্যম কে জানান,বুধবার বিকেলে একটা মেসেজ পান তিনি।যেখানে বলা হয় তার আইডি ডিজেবল করে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সিকিউরিটি আপডেট করলেও মেটার পক্ষ থেকে তার আইডি সাসপেন্ড করা হয়। এ জন্য আওয়ামী আইটি সেলের সাইবার হামলাকারীদের দায়ী করেছেন তিনি।
তিনি বলেন আমার আইডির উপরে, আওয়ামী সাইবার স্পেসের যারা আছে তারা ক্রমাগত অ্যাটাক করে আইডিটা ডিজেবল করে দিয়েছে। তাদের সাইবার অ্যাটাকের কারনে এটা সাসপেন্ড করে দিয়েছে। জানিনা কখন ব্যাক পাওয়া যাবে। তবে ফেইসবুক কতৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।আমাদের টা যেহেতু পারমানেন্ট ডিজেবল করে ফেলেছে ওদের টা এই সিকিউরিটি ইস্যুর জন্য ওরা আপাতত ডিএক্টিভ করে রেখেছে।আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য।
গণমাধ্যম কে জাতীয় নাগরিক কমিটির সংগঠক সার্জিস আলম জানান,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুজনে আইডি ডিজেবল করা হয়েছে। তাই তিনি,হাসনাত ও উপদেষ্টা আসিফের আইডি ডিএক্টিভ করেছেন।এসময় তিনি আরো বলেন যেহেতু চট্রগ্রামের সমন্বয়ক সালাত মাহমুদ খান রাফি ও অন্যতম সমন্বয়ক সাইয়েদ আবদুল্লাহর আইডি ডিজেবল করা হয়েছে। যে কোন সময় আমাদের আইডি বন্ধ করে দিতে পারে।
আইডি বিশেষজ্ঞ তানবীর হাসান জোহা বলেন,রাজনৈতিক পেক্ষাপটে বাহিরের হ্যাকার দ্বারা প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমন্বয়কদের ফেইসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আইডি ডিএক্টিভ কোন সমাধান নয়।মেটার কাছে আপিল করা কিংবা সরকারি ভাবে মেইল দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।এ সময় তিনি আরো বলেন,ফেইসবুকে কোন থার্ড পার্টি কিংবা নিউজপেপারের তোলা কোন ছবি,অডিও কিংবা ফুটেজ ব্যক্তিগত একাউন্টে কিংবা পেইজে আপলোড করলে অবশ্যই আইডি ডিজেবল হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে মুলত সাইবার কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের দুর্বলতার কারনে।সুতরাং যথাযথ ভাবে আপিল করলে এ সমস্যা সমাধান করা যাবে।তবে এক্ষেত্রে সাবমিট করতে হবে প্রকৃত এনআইডি বা পাসপোর্টের ছবি।
ক্র্যাক প্লাটুন বাংলাদেশ সাইবার ফোর্স নামে একটি পেইজ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যুক্ত থাকা অনেকের আইডি বা পেইজ ডিজেবল করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে সমন্বয়ক দের আইডি নষ্ট কিংবা ডিজেবল করে রাখায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহনকারীদের অনেকের মনেই শঙ্কা জেগেছে আইডি হারানোর। অন্তবর্তী সরকার কে এ বিষয় কে গুরুত্বের সাথে সমাধানের কথাও বলেন তারা।
এনএ/


