চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার হামলায় ইসরাইল হক কিনু (৪৫) নামে এক ব্যাক্তি গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
৫ আগস্ট সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদের সমাবেশ থেকে ফেরার পথে ব্রিজ মোড়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের হামলার শিকার হন। এ সময় তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
আহত ইসরাইল হক কিনু ইসলামপুর ইউনিয়নের পোড়াগ্রামের মৃত একরামুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাতারে ছিলেন। গত ৩ আগস্ট প্রবাসী কিনু ছুটিতে দেশে এসেছেন। ৫ আগস্ট বিএনপির গণঅভ্যুত্থান দিবসের সমাবেশ যান। সমাবেশ থেকে ফেরার পথে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন এই বিএনপি সমর্থক।
ঘটনার দিন স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুনহাট মীরের খৈলান চত্বরে বিএনপির গণসমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন তারা। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ। সমাবেশে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নেতা-কর্মীদের অনেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে যাওয়ার সময় ইসলামপুর ইউনিয়নের ব্রীজ মোড়ে হামলার মুখে পড়েন ইসরাইল হক কিনু। ইসলামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান ও তার ছেলে মো. রিশান দলবল নিয়ে তাকে রাস্তায় ধরে মারধর করেছে। এতে মাথায় আঘাত লেগে গুরুতর রক্তাক্ত যখম হয়।
কিনুর ভাই সাবেক ইউপি সদস্য মো. তুফানী জানান, আমার ভাই গত ৩ আগস্ট আগে বিদেশ থেকে দেশে এসেছে। সবার সঙ্গে সেও বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদের সমাবেশে গেছিলো। সমাবেশ থেকে ফেরার পথে ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়া মেম্বার ওর ছেলে রিশান তার দলবল নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুত্বর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) রেফার্ড করে দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক । তবে রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউ সংকট থাকায় তাকে বেসরকারি হাসপাতালের নেয়া হয়।
বর্তমানে সে ওই হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
তুফানী আরও বলেন, হামলাকারীরা চিহ্নত সন্ত্রাসী। আওয়ামী লীগের আমল থেকে তারা বিদেশি পিস্তল, ককটেল আর দেশি অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও আছে। তারপরও পুলিশ তাদের ধরছেনা। পুলিশের প্রশ্রয় ছাড়া এমন বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আমরা এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করিনি। মামলা করে কি লাভ হবে- সেটাই ভাবছি। পুলিশ তো এই সন্ত্রাসীদের কেনা গোলাম। পুলিশ সক্রিয় থাকলে ইসলামপুরে একেরপর এক এমন ঘটনা ঘটতো না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ ছাড়া অকারণে কোন ব্যবস্থা নিবোনা।
প্রসঙ্গত, হামলার আহত কিনুর অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতাল থেকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে আইসিইউ ফাঁকা না থাকায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার মাথায় একটি মেজর অপারেশন হয়েছে। এখন অবজারভেশনে। জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত কিছুই বলা যাবেনা।
পড়ুন: ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে, কারণ ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না : ড. মঈন খান
দেখুন: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস |
ইম/


