বিজ্ঞাপন

ভারতে আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানো নিয়ে ব্যাপক সহিংসতা

মহারাষ্ট্রে আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের নাগপুর শহরের বেশ কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী কিছুদিন ধরেই মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবি করে আসছিল। এই দাবির ফলে সহিংসতা তীব্র হয়ে উঠেছে এবং নাগপুরের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক সহিংসতায় গুজব ছড়ানোর পর নাগপুরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নাগপুরের মহল এলাকায় শিবাজি মহারাজের মূর্তির কাছে জড়ো হয়ে আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ দেখান।

এসময় তারা আওরঙ্গজেবের ছবি এবং একটি প্রতীকী সমাধি পুড়িয়ে দেয়। তাদের দাবি ছিল যে, এই সমাধি সরানো উচিত, কারণ এটি হিন্দুদের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানো হয় যে, প্রতীকী সমাধির ওপর পবিত্র আয়াত লেখা ছিল, যা এলাকাটিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

পুলিশের সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার জন্য তাদের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়। এ ঘটনায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে, এবং পুলিশসহ এক ডজনেরও বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে কোতোয়ালি, গণেশপেঠ, তহসিল, লাকাদগঞ্জ, পাচপাওলি, শান্তিনগর, সক্করদারা, নন্দনবন, ইমামওয়াদা, যশোধরানগর এবং কপিলনগর থানার এলাকায়।

এই সহিংসতার পর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সহিংসতা বন্ধে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নাগপুরে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশকে সহায়তা করতে এবং ‘গুজবে’ কান না দিতে জনগণকে অনুরোধ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যারা সহিংসতা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, রাজ্যের বিরোধী দল শিবসেনা ইউবিটি মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং নাগপুরে সহিংসতার ঘটনা সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক নেতারা নানা মন্তব্য করেছেন। বিজেপি নেতারা মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর পক্ষে থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সহিংসতার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বলছেন, ‘এ ধরনের সহিংসতা আমাদের শহরের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।’ তিনি নাগপুরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমানে রাজ্যে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।

পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলা জায়গায় নামাজ পড়ায় ভারতে শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

দেখুন: বাংলাদেশের চেয়ে কম দামে ভারতে মিলছে ইলিশ

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন