২১/০২/২০২৬, ১৯:১৭ অপরাহ্ণ
31.5 C
Dhaka
২১/০২/২০২৬, ১৯:১৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আক্কেলপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি ফুল দিয়েও শ্রদ্ধা জানালোনা কেউ

২১ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস। সারা দেশে শহীদ মিনারে নামে মানুষের ঢল, দিবসের প্রথম প্রহরে পুষ্পস্তবকে ঢেকে যায় সকল শহীদ মিনারের বেদি। কিন্তু জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল ভিন্ন এক দৃশ্য। সেখানে পড়েনি একটিও পুষ্পস্তবক। শ্রদ্ধা জানায়নি কেউ। মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর থেকে সারাদিন রিক্ত পড়ে ছিল শহীদ মিনারটি।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনার চত্বর ফাঁকা পড়ে আছে। নেই কোনো পুষ্পস্তবক, নেই কোনো ব্যানার বা শ্রদ্ধার বার্তা। সীমানা প্রাচীরের উপরে কাপড় শুকাতে দিয়েছেন স্থানীয়রা। মিনারের পাশে বাঁশে দড়ি বেধেও শুকানো হচ্ছে কাপড়। কাপড় শুকানোর কাজে বাদ পড়েনি শহীদ মিনার ঘিরে রাখা দেওয়ালও। প্রবেশ দ্বারে দেখা গেছে শুকাতে দেওয়া আছে গোবর (ঘুঁটে)। অপরিচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে ভিতরের প্রাঙ্গন, বিবর্ণ হয়েছে রয়েছে দেওয়ালের রং।

জানা গেছে, আক্কেলপুর রেলস্টেশনের উত্তর পাশে রেল লাইনের পূর্ব পাশে ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলু। একই বছরের ১ জুলাই এটি উদ্বোধন করেন বরেণ্য ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে নির্মিত এই স্থাপনাটি প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর থাকার কথা থাকলেও এবার ছিল সম্পূর্ণ নিরব।

রেহেনা বেগম নামের স্থানীয় এক মহিলা বলেন, সারা বছর অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকে এই শহীদ মিনারটি। পাশের বস্তির লোকজনেরা নিয়মিত এখানে কাপড়, গোবর (ঘুঁটে) শুকায়। প্রাচীরের অধীকাংশ ভেঙে গেছে। সন্ধ্যার পর মাদক আর জুয়ার আড্ডা চলে শহীদ মিনারের ভেতরে।

পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রউফ মাজেদ বলেন, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরন করার জন্যই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু আক্কেলপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা নিবেদন না করায় শহীদ মিনারটিকে অবমানা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহব্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজেন্দ্র প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বাবলুর উদ্যোগে ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার করা হয়। প্রতি বছর মাতৃভাষা ও জাতীয় দিবসগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হচ্ছিল। এবারে উপজেলা প্রশাসন সকলের সম্মতি নিয়ে সরকারি মুজিবর রহমান কলেজ মাঠের শহীদ মিনারে প্রশাসনিকভাবে শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু কোন একটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা না জানানো দুঃখজনক।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা জান্নাত বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের পূর্বে সভা আহবান করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারি মুজিবর রহমান কলেজ মাঠের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কেউ শ্রদ্ধা জানায়নি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।

পড়ুন- রাতের আঁধারে নেত্রকোনায় পূর্বধলায় নিষিদ্ধ আ.লীগের আকস্মিক শ্রদ্ধাঞ্জলি

দেখুন- ৫০ বছর পর আবার চাঁদে যাচ্ছে মানুষ, তারিখ ঘোষণা করল নাসা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন