রমজানের হাওয়ায় আখাউড়ার বাজারে এখন খেজুরের গন্ধ। পৌরশহরের সড়কবাজারের ফুটপাতজুড়ে রঙিন পসরা—মাবরুম, আজওয়া, জিহাদি, মরিয়ম—নানা নামের, নানা স্বাদের খেজুর। টিনের ছাউনি আর ত্রিপলের ছায়ায় সাজানো ১২ থেকে ১৫ জাতের খেজুর যেন ছোট্ট এক মরু-উৎসব।
তবে এই উৎসবের রং ফিকে করে দিয়েছে দাম। প্রকারভেদে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৮০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় সবধরনের খেজুরেই কেজিতে বেড়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
সড়কবাজারের ব্যবসায়ী আরজু মিয়া জানান, ঢাকাসহ চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার থেকে খেজুর আসে আখাউড়ায়। “দাম বেশি হওয়ায় এবার বিক্রি কিছুটা কম। ক্রেতারা দেখছেন বেশি, কিনছেন কম,” বলেন তিনি।
ভূইয়া স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ফোকরান ভূইয়া বলেন, সারা বছরে রমজানেই খেজুরের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। “জিহাদি জাতের খেজুরের দাম এবার অনেক বেশি। গত রমজানে যেটা ১৮০ টাকায় বিক্রি করেছি, এবার সেটা ৩০০ টাকা কেজি,” জানান তিনি।
খেজুরের সঙ্গে ইফতারের আবেগ জড়িয়ে থাকে বহু পরিবারের। সালাম মিয়া নামের এক ক্রেতা বলেন, “ইফতার শুরুই হয় খেজুর দিয়ে। কিন্তু এবার দাম বাড়ায় প্লেটে আগের মতো রাখা যাচ্ছে না।”
আরেক ক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, “রোজার শুরু থেকেই দাম চড়া। চাহিদার তুলনায় কম কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।”
বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতার কথা জানিয়ে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “বাজার দর স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”
রমজানে খেজুর শুধু একটি ফল নয়—এটি এক টুকরো সুন্নত, এক চুমুক মিষ্টি প্রশান্তি। কিন্তু দামের ঊর্ধ্বগতিতে সেই মিষ্টি স্বাদে এবার কিছুটা তিক্ততার ছায়া পড়েছে আখাউড়ার ইফতার টেবিলে।
পড়ুন : দোল পূর্ণিমায় আখাউড়া স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক


