ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সাত্তার বাদি এই মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় আসামী করা হয়েছে, আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টাফ রিপোর্টার এবং আখাউড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি এবং আরটিভির আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি ও আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনকে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগ আনা হয়।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন জনান, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। চাঁদাবাজির পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্য সংবাদ প্রকাশ করে মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত ৪ আগস্ট আরটিভি অনলাইন এবং ৭ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ওসির নেতৃত্বে ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে ঘুষ গ্রহণ, যাত্রী হয়রানি এবং অবৈধ পারাপারের নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
দৈনিক যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা পেশাগত দায়িত্ব থেকে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছি। এ মামলা হয়রানিমূলক এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা। অবিলম্বে এই হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
আরটিভির প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন বলেন, সাংবাদিকের কাজ সত্য প্রকাশ করা, ভয় বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা নয়। মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। ইমিগ্রেশন ওসির বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত হলে দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। অথচ আখাউড়া থানার ওসি ছমিউদ্দিন তদন্ত ছাড়াই মামলাটি রুজু করে প্রমাণ করেছেন তিনি নিরপেক্ষ নন,এটি সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।
আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন লিটন বলেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ করাই সাংবাদিকদের হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, এটি সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আমি বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আখাউড়া সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করলেই যদি মামলা হয়, তাহলে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা সাংবাদিকদের পাশে আছি এবং অবিলম্বে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সাংবাদিকরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
পড়ুন: কমপ্লিট শাটডাউন প্রত্যাহার কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে আখাউড়া স্থলবন্দরে
এস/


