28.5 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ১৭:৫৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আগামী নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা : মেজর হাফিজ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও যদি ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করি, তাহলে ১৫ দিনও ক্ষমতায় টিকতে পারব না।

শনিবার (০৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল মহানগর শাখা আয়োজিত ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে মেজর হাফিজ মুক্তিযোদ্ধাসহ সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যে দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া জীবিত আছেন এবং যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ, কোনো ষড়যন্ত্রই সেই দলকে ধ্বংস করতে পারবে না।
লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্তবর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনুসের বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, ড. ইউনুস প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু কেউ কেউ নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতার স্বাদ পেতে শুরু করেছে। এজন্য তারা নির্বাচন প্রলম্বিত করার চেষ্টা করছে। তারা জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। এ কারণে পিআর পদ্ধতিতে ভোটের কথা বলা হচ্ছে।

নির্বাচন ঘোষণার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ড. ইউনূস অভিজ্ঞ মানুষ হলেও তার উপদেষ্টা পরিষদের অনেকের রাষ্ট্র চালানোর যোগ্যতা নেই। কেউ কেউ গদি ছাড়তে চাননি। কেউ কেউ পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর হাফিজ আরও বলেন, এনসিপি নামে নতুন দল আমাদের জ্ঞান দিচ্ছে, অথচ একাত্তরে যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, তারা এখন দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

মেজর হাফিজ উপদেষ্টা পরিষদের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, এক বছরে কোনো সংস্কার হয়নি। আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে পুলিশ বাহিনী সংস্কার করা উচিত ছিল। সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই বাহিনী গঠন হয়েছিল, কিন্তু হাসিনার পতনের সময় তারা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দিয়েছে।
এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে কথা বলার সুযোগ পেলে আমি অনেক কথা বলে ফেলি। স্বাধীনতার ঘোষণার পর সাধারণ মানুষ জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছে, অথচ স্বাধীনতার পর শহরের ফিটফাট পোশাকের সাহেবরা মুক্তিযোদ্ধা সেজে বসেছে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি শেখ আলমগীর হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফত। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর বিএনপি সভাপতি শফিকুল আলম মনা, জেলা আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন।

আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তারেক রহমান ও ড. ইউনুসের বৈঠকের পর নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। তবে কিছু রাজনৈতিক দল এখনও ষড়যন্ত্র করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্রদল অংশগ্রহণ করবে বলেই ১৯টি হলে কমিটি ঘোষণা হয়েছে। ছাত্রদলের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে গুপ্ত সংগঠনগুলো অশ্লীল ভাষায় মিছিল করেছে। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : খুলনা মহানগর ও জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন