১৪/০১/২০২৬, ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ
16 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আজ ভাঙ‌বে সাধুর হাট

অসংখ্য বাউল, সাধু, গুরু, বৈষ্ণবের আগমনে এখন মুখরিত কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়া বাড়ি। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন শ‌নিবার একতারা-দোতারা, ঢোল-খোল, বাঁশি, আর প্রেমজুড়ির তালে মাতোয়ার হয়ে উঠেছেন বাউলরা। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের মৃত্যুর ১৩৫ বছর ধরে এভাবেই বাউল সাধকরা জড়ো হন বাউলতীর্থে। এবার ১৭ অক্টোবর সাঁইজির তিরোধান দিবস হওয়ায় আগে থেকেই ভক্তরা আসতে শুরু করেন আখড়া বাড়িতে। এক উদাসি টানে মানুষ ছুটে এসেছেন দলে দলে, হাজারে হাজারে। যেখানে মিলন ঘটেছে নানা ধর্ম, নানা বর্ণের মানুষের। কেউ এসেছেন ধবধবে সাদা পোশাকে, আবার কেউ গেরুয়া বসনে। সাঁইজির টানে এ ধামে বাউল ছাড়াও সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেছে। সমাধিতে ফুল, আতর, গোলাপ ছড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন হাজারো শিষ্য-ভক্ত।

এদি‌কে উৎসবে শামিল হতে দে‌শের বাইরে থেকে ছুটে এসেছেন অ‌নে‌কে। ‘বাড়ির পাশে আরশী নগর, মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই কুল হারাবি, মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি, সত্য বল সুপথে চল, এলাহি আলামিন গো আলা বাদশা আলমপনা তুমি’ এ রকম অসংখ্য লালনসংগীতের সুরের মূর্ছনায় তারা মাতিয়ে তুলেছেন বাউলধাম। লালন মাজারের আশপাশে ও মরা কালী গঙ্গার তীর ধরে বাউলেরা ছোট ছোট আস্তানা গেড়ে সাঁইজিকে স্মরণ করেছেন গানে গানে। বাউল-ফকিরদের সঙ্গে সুর মেলাতে ভুল করছেন না ভক্তরাও। দূর-দূরান্ত থেকে সাদা বসনে বাউল সাধকরা এসেছেন দলে দলে একতারা-দোতারা, ঢোল-খোল, বাঁশি, প্রেমজুড়ি, চাকতি, খমক হাতে। ক্ষণে ক্ষণেই খন্ড খন্ড মজমা থেকে নৃত্যসঙ্গীতের তালে তালে ছলকে উঠছে যেন উত্তাল ভাববাদী ঢেউ। কেউ শুধু লুঙ্গি পরে নাচছেন, গাইছেন।

কারও উদোম গা। গলায় বিচিত্র বর্ণ ও আকারের পাথরের মালা। হাতে বিশেষ ধরনের লাঠি ও বাদ্যযন্ত্র। লালন ধামের ভেতর ও বাইরে নিজেদের পছন্দমতো জায়গা করে নিয়ে গান-বাজনা করছেন তারা। বিচিত্র সব বাদ্যযন্ত্রে তুলছেন হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া লালনগীতি। আখড়ার একটি দল থামছে তো অন্যটি জমিয়ে রাখছে চারপাশ। সকা‌লে বাল‌্যসেবা ও দুপুরে বাউলের চারণভূমিতে আসা হাজার হাজার লালন-ভক্ত, সাধু-গুরু মরা কালীগঙ্গায় গোসল সেরে পুর্ণসেবা গ্রহণ করেন। আর এর মাধ‌্যমেই শেষ হয়ে‌ছে সাধুসঙ্গ। কোন রাগ- ক্ষোভ নেই বাউল‌ ও ভক্তঅনুসারী‌দের। তখন বেলা তিনটা। লালন একাডেমির প্রধান ফটক বন্ধ। ভিতরে লাইন দিয়ে ওয়ান টাইম থালা সামনে নিয়ে হাজার হাজার সাধু ফকিরের অপেক্ষা। সবাই খাবার পাবার পর বিশেষ আওয়াজ দিয়ে জানিয়ে দেয়া হলো বিতরণ শেষ। এবার খাওয়া শুরু হলো একযোগে। মাছ, ভাত, সবজি ও মিষ্টান্ন দিয়ে লালনধা‌মে আসা বাউল, সাধু ফকির পুর্ণসেবা গ্রহণ করেন। কোন সে উদাসী ডাকে মানুষ ছুটে আসে দলে দলে, হাজারে হাজারে। তা কেউ জানে না।

লালন ধামের ভেতর পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী বাউল আয়েশা তার সহযোগীদের নিয়ে একতারা হাতে নেচে-গেয়ে সাঁইজির বন্দনা করছিলেন। কথার পিঠে কথা আর মনের ভেতর আধাত্ম্যবাদ নিয়ে গাইছিলেন তিনি। আয়েশা বলেন, লালন নিজেও এভাবে গান করতেন। তার কাছে ধর্ম, বর্ণ, জাত-পাতের বিচার ছিল না। পুরুষের পাশাপাশি আশ্রয়হীন নারীদের তিনি বাঁচার সুযোগ করে দিতেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে গাইতেন। নাচতেন। কোনো এক অচিন গাঁয়ের অচেনা মানুষ ফকির লালন এখানে বসেই জীবনভর সন্ধান করেছেন, অচিন পাখির সহজ কথায় বেঁধেছেন জীবনের গভীরতম গান। এদিকে আজ র‌বিবার বি‌কে‌লে আলোচনা সভার ম‌ধ্যে দি‌য়ে আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে শেষ হ‌বে ‌লালন তি‌রোধান দিব‌সের আয়োজন।

মস‌লেম শেখ না‌মে এক বাউল বলেন,’লালনের গানে মানবতা বোধ, অহিংস ভাব ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কারণে দিন দিন তার গানের ভক্ত ও অনুসারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। লালন সাঁইজির এ আদর্শ অনুসরণ করলে হানাহানি বন্ধ হয়ে যেত ব‌লে ম‌নে ক‌রেন তি‌নি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কু‌ষ্টিয়ায় বসতঘ‌রের বারান্দায় ভ্যানচালক খুন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন