আজ ৩ এপ্রিল, ঢাকাই চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক আলমগীরের জন্মদিন। ১৯৫০ সালের এই দিনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে জন্ম নেওয়া এই গুণী ব্যক্তিত্ব ২০২৪ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হয়েছেন। সাতাত্তর বসন্ত পেরিয়ে আলমগীর আজও এ দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
তার অভিনয়জীবনের শুরুটা হয়েছিল কলেজজীবনে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। তবে বড় পর্দায় আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ১৯৭২ সালের ২৪ জুন, বরেণ্য পরিচালক আলমগীর কুমকুমের ‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই ‘দস্যুরানী’, ‘অতিথি’, ‘মমতা’ ও ‘হীরা’র মতো সিনেমার কাজ শুরু করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালে শাবানার বিপরীতে ‘চাষীর মেয়ে’ ও কবরীর বিপরীতে ‘লাভ ইন শিমলা’ তাকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে যায়। তবে ১৯৭৮ সালে ‘জিঞ্জির’ সিনেমায় নায়করাজ রাজ্জাক ও সোহেল রানার মতো প্রতিষ্ঠিত নায়কদের পাশে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নেন।
দীর্ঘ এই পথচলায় আলমগীর কেবল অভিনেতা হিসেবেই নন, বরং গায়ক, উপস্থাপক এবং সফল পরিচালক হিসেবেও মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। ১৯৮৫ সালে কামাল আহমেদের ‘মা ও ছেলে’ সিনেমার জন্য প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর ‘অপেক্ষা’, ‘ক্ষতিপূরণ’, ‘পিতা মাতা সন্তান’, ‘মরণের পরে’, ‘অন্ধ বিশ্বাস’ ও ‘দেশ প্রেমিক’সহ অসংখ্য সিনেমার জন্য এই সম্মাননা লাভ করেন। বাংলাদেশের নায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চবার জাতীয় পুরস্কার জেতার রেকর্ডটি তারই। ২০১৯ সালে তিনি লাভ করেন ‘আজীবন সম্মাননা’।
পরিচালনায়ও আলমগীর সফল। ১৯৮৫ সালে ‘নিষ্পাপ’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হওয়া এই ব্যক্তিত্ব সর্বশেষ নির্মাণ করেছেন ‘একটি সিনেমার গল্প’। পারিবারিক টানাপড়েন থেকে অ্যাকশন- সব ঘরানাতেই তিনি ছিলেন সাবলীল। এমনকি শৈশবে সৈয়দ আব্দুল হাদীর কাছে গান শেখা এই অভিনেতা মোস্তফা মেহমুদের ‘মনিহার’ সিনেমায় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ও সত্য সাহার সুরে প্রথম প্লে-ব্যাকও করেছিলেন।
আজকের এই বিশেষ দিনটি একই সঙ্গে জাতীয় ‘চলচ্চিত্র দিবস’। দিনটি উদযাপনে মাছরাঙা টেলিভিশনের বিশেষ শো ‘স্টার নাইট’-এর নতুন মৌসুমে হাজির হবেন তিনি। রুম্মান রশীদ খানের গ্রন্থনা ও মৌসুমী মৌয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে তিনি তার বাবা-মা ও পরিবারের অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরবেন। জীবনের এই পর্যায়ে এসে আলমগীরের চাওয়া কেবল একটাই- সবাই মিলে দেশকে ভালোবাসা এবং নিজের মতো করে গড়ে তোলা।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

