28.8 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ১৯:৩৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আদালতের স্থিতাবস্থা সত্ত্বেও জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ,আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু হাওলাদার ও বাবুলের বিরুদ্ধে

মাদারীপুরের ডাসারে আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে অসহায় একটি পরিবারের বসত বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের মারধরের শিকারও হয়েছেন ভুক্তভোগী ওই পরিবার।

বিজ্ঞাপন


অভিযোগ উঠেছে, আদালতের স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করেই ভুক্তভোগীর বাড়ির দখল গাছের চারা রোপন করে বসত ঘর তুলে জমি দখল।এতে বাড়ি থেকে চরম মানবেতন জীবন পার করছে ওই পরিবার।


জানা গেছে, ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধূয়াসার মৌজার সাবেক ৬১নং খতিয়ানের আক্কেল আলী কবিরাজের কাছ থেকে ১৯৬১ সালে ৩১ শতাংশ জমি কেনেন মৃত মাহফুজা বেগম। পরে বি.আর.এস খতিয়ানের ৩৬৭ নং দাগে তার নামে রেকর্ড চূড়ান্ত হয়।মাহফুজা বেগমের মৃত্যুর পর তার সন্তানরা—রেহানা বেগমসহ—ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিক হন। রেহানা বেগম মারা যান ২০২১ সালে।কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মৃত রেহানা বেগমকে ‘জীবিত’ দেখিয়ে তার জায়গায় হাজির করা হয় সিমা আক্তার নামে এক নারীকে—যিনি আসলে মৃত রেহানার মেজো ভাইয়ের স্ত্রী। তার বাবার নাম লতিফ খন্দকার, অথচ দলিলে লেখা হয় মৃত রেহানার বাবার নাম নাদের আলী।এই জালিয়াতির মাধ্যমে ০১.৬৬ শতাংশসহ মোট ২৪.৪৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয় মো. বাবুল হাওলাদার ও কোহিনুর বেগম নামে দুই ব্যক্তির।অথচ সেই মৃত ব্যক্তিকেই জীবিত দেখিয়ে সুমি নামের এক নারীকে জীবিত দেখিয়ে ২০২৪ সালে একটি জমির জাল দলিল প্রস্তুত করেন দলিল লেখক মিজানুর রহমান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এদিকে ঘটনার সত্যতা জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবার ২০২৪ সালে মাদারীপুর আদালতে  একটি জাল দলিল মামলা দায়ের করে। মামলার পর পুলিশ মিজানুর রহমানকে আটক করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তিনি প্রায় এক মাস কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন।পরে জোরপূর্বক জমি দখলের পাঁয়তারা চালান।এমন তো অবস্থায় কোন উপায় না পেয়ে মাদারীপুর  সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা নং ১৪/২০২৬ ও মোকদ্দমা নং দেঃ কাঃ বিঃ আইনের ৯৪ (অ) ও ১৫১ ধারার বিধান মতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তারিখের আদালতের স্থিতিবস্থার আদেশ কার্যকর করার জন্য ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ তরিকুল ইসলামকে নির্দেশ দেন। যা আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত জমির ওপর আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন।


আদেশে আদালত উক্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, ওই সম্পত্তিতে বিবাদীগণের কোনো প্রকার প্রবেশাধিকার ও নির্মাণ কাজ এবং জমি হস্তান্তর না করার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের নির্দেশের ১ দিন পরেই আদেশ অমান্য করে ওই জায়গা গাছ লাগানো বাড়িঘর মেরামত ও মাটি কেটে ঘরে থাকার উপযোগী গড়ে তুলে।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী মাহমুদুর রহমান রনি বলেন,এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলতেছে। মামলা থাকার পরও তারা জোরপূর্ব নান্নু বাবুল কোহিনূর দখল করতে আসছে। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের হত্যার হুমকি দেয়। তিনি আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে আদালত থেকে আমাদের জমির মধ্যে তাদের না ঢুকতে নিষেধাজ্ঞা আছে। আদালত থেকে এ বিষয়ে বিবাদীকে নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও তারা অমান্য করে অবৈধভাবে আমাদের জমি জবর দখলের চেষ্টা করছে।’
আরেক ভুক্তভোগী আব্দুস সামাদ কবিরাজ বলেন,আমি একজন প্রাইমারী শিক্ষক, আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে পতিত সরকারে আওয়ামীলীগ নেতা নান্নু গংরা।

এ বিষয়ে আইন কি বলে জানতে চাওয়া হলে মাদারীপুর অ্যাডভোকেট আবুল হাসান সোহেল বলেন ‘যেকোনো নিষেধাজ্ঞা, স্থিতাবস্থা যাই বলেন না কেন, আদালত আদেশ দিলে সেটা বাস্তবায়ন করা সকল বিভাগের দায়িত্ব। আদেশ মানা না হলে আদালত অবমাননার মামলা করা যাবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু হাওলাদার ও বাবুল আক্তার ও কহিনূরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জায়গার মালিক বলে দাবি করেন। তার কাছে কাগজপত্র আছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি কারো জায়গা দখল করিনি। এবং আদালত আমাকে এই জায়গা ভোগদখলে রাখতে বলেছে। তাই আমি আমার জায়গায় গাছ লাগিয়েছি।’

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন,‘আমি নিষেধাজ্ঞার কাগজপত্র দেখেছি। তবে আদালত আমাকে আদেশ দিয়েছে। যদি এরকম ঘটনার সাথে কেউ জড়িত হয় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

পড়ুন- ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মধ্যে ভূমিকম্পে কাঁপলো ইরান

দেখুন- ইরানের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক সেনা সদস্য নি/হ/ত 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন