সম্প্রতি রাজউকের পূর্বাচলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অংশ নিয়ে পূর্বাচল দক্ষিণ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জের অংশ নিয়ে পূর্বাচল উত্তর থানা করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে রূপগঞ্জ থানার অধীনে পূর্বাচলের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নীলা মার্কেট ১নং সেক্টর এলাকায় গড়া হয়েছে পুলিশ ক্যাম্প। পাশাপাশি পূর্বাচলের ৩ নং সেক্টরের পাশে কথিত পুলিশ আবাসন কোম্পানি আনন্দ হাউজিং সোসাইটি রক্ষায় গড়া হয়েছে আরও একটি পুলিশ ক্যাম্প। যা পূর্বাচল ক্যাম্প হিসেবেই পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে শুধুমাত্র একজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতা বলে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে এ ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়। আনন্দ হাউজিং সোসাইটির সীমানায় করা পুলিশ ক্যাম্পটি গুতিয়াবো ও মধুখালী গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থান থাকলেও সেখানে স্থানের নামে আনন্দ হাউজিং সোসাইটি লিখে দেয়। যেখানে একজন এসআই ও ২জন এ এসআই ৬ জন কনস্টেবল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে ক্যাম্প । অন্যদিকে পূর্বাচল ক্যাম্পে একই সংখ্যক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও ১ নং সেক্টর নীলা মার্কেট এলাকায় এখন সেখানে থানার অধীনে ক্যাম্প নাই। এতে নির্ধারিত কোন আইন শৃঙ্খলা বাহীনি দায়িত্ব পালন না করায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরমভাবে বেড়েছে চুরি,ছিনতাইসহ নানা অপরাধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, আনন্দ হাউজিং সোসাইটির নামে বিগত সময়ে বালি ভরাট করে বাংলাদেশ পুলিশের ভয় দেখিয়ে আবাসন কোম্পানি গড়ে তোলে কতিপয় কর্মকর্তারা। এরপর থেকে থানা পুলিশের মাধ্যমে নিরীহ জমি মালিকদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করে৷ বিভিন্ন সময় জমি মালিকরা জবর দখলের প্রতিবাদ করলে তাদের পুলিশ দ্বারা থামানো হয়েছে। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দা জাহের আলীসহ বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে জোর করে জমি লিখিয়ে নিয়েছে। এক সময়ের বিল, ডিঙ্গামারা খাল ভরাট, আগারপাড়া খাল ভরাট,আগারপাড়া সুরিয়া সড়ককে বালির তলায় ফেলে রাখে। শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণকে ভয় দেখাতে গত আওয়ামী সরকারের আমলে গুতিয়াবো আগারপাড়া কবরস্থানের পাশে একটি জমিতে পুলিশ ক্যাম্প করা হয়। এতে স্থানীয়রা পুলিশ ক্যাম্প কাছে পেয়েও স্বস্তির পরিবর্তে ভয়ে দিন কাটায়।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আনন্দ হাউজিং সোসাইটির এমডি গাজী ইশমাম মুঠোফোনে বলেন, জনস্বার্থেই পুলিশ ক্যাম্প করতে জমি দান করা হয়েছে। আমরা পুলিশকে আমাদের কাজে ব্যবহার করিনা। এখানে জমি ক্রয় করে আবাসন কোম্পানি করা হচ্ছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সবজেল হোসেন বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আলাদা দুটি থানা ঘোষণা করা হয়েছে৷ এতোদিন পূর্বাচল ক্যাম্প থেকে পুলিশ কাজ করতো। আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক। তবে কি কারনে ক্যাম্পের স্থানের নামে আনন্দ হাউজিং সোসাইটি লেখা হয়েছে তা বলতে পারবো না। যদি নাম নিয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসীর আপত্তি থাকে বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানাবো। তবে পুলিশ কোন আবাসন কোম্পানির হয়ে কাজ করে না।
পড়ুন- এক নারীর দুই সংসার!


