১০/০২/২০২৬, ১৫:৫৫ অপরাহ্ণ
26 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ১৫:৫৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আপনার ভোটের সিল যেন অন্য কেউ দিতে না পারে: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবার আমাদের আগের দিন থেকে ভোট দেয়ার প্রস্ততি গ্রহণ করতে হবে। যাতে আপনার ভোটে অন্য কেউ সিল দিতে না আসতে পারে। যার যার এলাকার ভোট কেন্দ্র সর্তক সৃষ্টি রাখতে হবে। সঠিক কেউ ভোট দিচ্ছে না কি অন্য এলাকা থেকে এসে ভোট দিচ্ছে এ ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। সবাইকে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল উপজেলার দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ভোট দিয়ে চলে আসলে হবে না। ভোট যাতে অন্যদিকে চলে না যায়, বাক্স দেখাবে খালি আর দিবে ভরা। এইসব চলবে না। সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ২০০৮ সালে বাক্সের ম্যাজিক দেখানো হয়েছিল। রেজাল্প পাল্টে দেয়া হয়েছিল। এবার যাতে রেজাল্ট পাল্টাতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এখনো কোন কোন মহল চেষ্টা করছে কিভাবে ভোটকে বাধাগ্রস্ত করা যায়। তাদের বিভিন্ন লোকজন দিয়ে মা- বোনদের এনআইডি ও বিকাশ নেয়ার চেষ্টা করছে। এভাবে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে৷

তিনি আরো বলেন, গত ১৫/১৬ বছর আমরা দেখেছি, আমাদের সারা বাংলাদেশে গ্রামে-গঞ্জে আনাচে কানাচে, মানুষ বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়েছে। এলাকার উন্নয়ন থেকে, মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা দেখেছি, ঢাকাসহ কিছু বড় বড় শহরে মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে সেই সময়। আমরা গুম দেখেছি, মিথ্যে মামলা দেখেছি, গায়েবী মামলা দেখেছি। ঠিক একইভাবে আমরা প্রচণ্ড রকম দুর্নীতিও দেখেছি, মেগা মেগা দুর্নীতি দেখেছি। এই অবস্থার পরিবর্তনের সময় এসেছে। এই অবস্থার পরিবর্তন যদি করতে হয়- ৫ তারিখে যেমন বাংলাদেশের জনগণ দলমত নির্বিশেষে রাস্তায় নেমে এসেছিল। ঠিক একইভাবে আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে হবে। কারণ আমরা যদি ৫তারিখের সেই পরিবর্তন চালু রাখতে না পারি, ভোট দিয়ে যদি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করতে না পারি তাহলে আমরা যে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করতে চাচ্ছি, যে গণতন্ত্র সুশাসন নিশ্চিত করবে, যে গণতন্ত্র মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করবে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে সেই গণতন্ত্র আবার বাধাগ্রস্থ করবে।

তিনি বলেন, এ দেশ একটি দলের না, কারো ব্যক্তিগত না, এই দেশ লক্ষকোটি মানুষের। এদেশের মালিক এই দেশের জনগণ। কাজেই সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশের উন্নয়নের রাজনীতি।

তিনি আরো বলেন, জীবনের মূল্য দিয়ে আমাদেরকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছে, জীবন উৎসর্গ করে আমাদের কথা বলার সুযোগ দিয়ে গেছে, আজ আমাদেরকে এমন একটি পরিবেশ দিয়ে গেছে যেখানে আমরা দেশ গড়ার কাজ শুরু করতে পারবো। আমাদেরকে অবশ্যই খুব সতর্ক ও সঠিকভাবে সময়কে ব্যবহার করতে হবে। আবার কেউ এসে যেন বাংলাদেশের ভোটের অধিকার, কথা বলর অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। আগামী দিন দেশ গড়ার দিন, আগামীদিন হচ্ছে দেশগড়ার রাজনীতি। আগামীদিন হচ্ছে মানুষের ভাগ্য বদল করার দিন। কাজেই আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি সকলে সতর্ক থাকি তাহলে আমাদের এই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। সেজন্য আপনাদের কাছে আহ্বান থাকবে, এখনো কোন কোন মহল বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে কিভাবে ভোটকে বাধাগ্রস্থ করা যায়। তাদের বিভিন্ন লোকজন দিয়ে, বিশে করে মা-বোনদের এনআইড নাম্বার নেয়ার চেষ্টা করছে, তাদের বিকাশ নম্বর নেয়ার চেষ্টা করছে। এভাবে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আপনারা ঘরে গিয়ে মা-বোনদের সতর্ক করবেন। ভোটের আগেই যারা এমন অনৈতিক কাজ করতে পারে তারা যদি সুযোগ পায় তাহলে দেশকে বিক্রি করে দেবে।

নারীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, মা-বোনদের সাবলম্বি করতে হবে। মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে অর্থনৈতিভাবে সাবলম্বি করে গড়ে তুলতে চাই। কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। যদি কৃষক ভালো থাকে তাহলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। এজন্য কৃষকদের আমরা কৃষক কার্ড দিতে চাই। কৃষি লোন ১০ হাজার পর্যন্ত সুদসহ মওকুফ করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, মসজিদের মুয়াজ্জিন, ইমাম, খতিব অন্য ধর্মীয় মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করতে চাই। প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। দেশ কিভাবে গঠিত হবে সেই পরিকল্পনা আপনাদের সাথে তুলে ধরলাম। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চাই।

প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ আছে তাদের সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যদি বকাঝকা করি তাহলে আপনাদের কোন লাভ হবে না। বরং আমরা যারা নির্বাচন করছি তারা দেশের জন্য কি করবে সেটা আপনাদের সামনে পরিস্কারভাবে তুলে ধরা। একটি রাজনৈতিক দলের এটাই হচ্ছে কাজ, জনগণের জন্য তারা আগামী দিনে সুযোগ পেলে তারা কিকি কাজ করবে-সেটাই তুলে ধরা। আজকে আপনাদের সামনে আমি সেই কথাগুলোই তুলে ধরলাম। পরিকল্পনা সব আপনাদের সামনে। বাস্তবায়নের শক্তিও আপনাদের সামনে। অর্থাৎ আপনারা ধানের শীষকে ১২ তারিখে বিজয় করলে ১৩ তারিখ থেকে আমরা কাজগুলো করবো।

পরে তিনি টাঙ্গাইলের আটটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব জনগণের কাছে অর্পন করেন।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তৃতা করেন টাঙ্গাইল-১ আসনের দলীয় প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম, টাঙ্গাইল-২ আসনের আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৩ আসনের ওবায়দুল হক, টাঙ্গাইল-৪ আসনের লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৫ আসনের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,টাঙ্গাইল -৬ আসনের রবিউল আওয়াল লাভলু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-৮ আসনের আহমেদ আযম খান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মত জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন