পিরোজপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে বিএনপির এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পিরোজপুরে বিএনপির কার্যালয়ে এই মতবিনিময়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক হাফিজ আল আসাদ সাঈদ খান বলেন, “আপনি হিন্দু, আমিও হিন্দু—কারণ আমরা সবাই সিন্ধু সভ্যতায় বেড়ে উঠেছি। এখানে হিন্দু, মুসলিম কিংবা পাহাড়ি-আদিবাসী—সবাই একই রক্তের অধিকারী, একই মানচিত্রে এবং একই লাল-সবুজের পতাকার তলে ঐক্যবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি একটি সামাজিক সম্পর্ক, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে। তাই শারদীয় দুর্গোৎসবকে আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের উৎসবে পরিণত করতে হবে। “প্রত্যেক বাড়িতে যেন উৎসবের ঢেউ ওঠে। তবে শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে যেন কেউ বিশৃঙ্খলার কারণ না হন। সনাতন ধর্মালম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা করবেন, আর আমরা সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। তবে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে যেন আবার নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে।”
সভায় পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, “ধর্ম থাকুক অন্তরে, মসজিদে আজান চলুক, মন্দিরে ঘণ্টা বাজুক—এর প্রমাণ পিরোজপুর। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, আর পিরোজপুর তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও আটচালা বাড়ি মন্দির একই সীমানায় রয়েছে, তবুও কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক আগেই বলেছেন—এই দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই, সবাই বাংলাদেশী।”
এ সময় জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম আহবায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামানসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
নেতারা বলেন, নবগঠিত জেলা বিএনপি কমিটি, আগের নেতৃত্ব ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে পিরোজপুরকে সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।
পড়ুন: গাজীপুরে কাপাসিয়াবাসীদের প্রীতি সম্মেলন ও উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক নির্বাচনী মতবিনিময়
দেখুন: পুঁজিবাজারে দরপতন: বিএসইসি’র চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি
ইম/


