১৪/০১/২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আবারও পাল্টি নিলেন জাসদ নেতা খাদেমুল ইসলাম খুদি

গাইবান্ধায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা খাদেমুল ইসলাম খুদি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন।
চলতি বছরের ৩ ডিসেম্বর নেতা খাদেমুল ইসলাম খুদিকে আহ্বায়ক করে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ৫২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জাসদের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক খুদিকে জেলা কমিটির আহ্বায়ক করায় জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খুদিকে আহ্বায়ক করে কমিটি অনুমোদন দেওয়ায়, ওই কমিটি বেশ কয়েকজন নেতা পদত্যাগও করেন। সমালোচনার ঝড় না থামতেই আবারও পল্টি নিয়ে আলোচনায় আসেন খুদি।

বিতর্কিত এই নেতাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই কমিটি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন অনেকেই। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু কর্তৃক বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ‘অগ্নি সন্ত্রাস ও জঙ্গির মা’ আখ্যায়িত করে দেওয়া পুরোনো ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করে খাদেমুল ইসলাম খুদিকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দেওয়া হয়। জামায়তে ইসলামীর সাথে এনসিপি যোগ দিলেও খাদেমুল ইসলাম খুদি স্বতন্ত্র পদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য পদে গাইবান্ধা -৩ ( পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসন থেকে স্বতন্ত্রপদে মনোনয়ন ফরম জমা দেন।

জেলা রিটারিং অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবি, বাসদ, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীসহ ৪৫ প্রার্থী মনোয়নপত্র জমা পড়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো মাসুদুর রহমান মোল্লা। তিনি বলেন, গাইবান্ধা পাঁচটি আসনে মোট ৬০ জন মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। এরমধ্যে স্বতন্ত্রসহ শেষ দিনে মোট ৪৫ জন জমা দেন। এর মধ্য খাদেমুল ইসলাম খুদি স্বতন্ত্রপদে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে খাদেমুল ইসলাম খুদি জেলার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলায় সুধী সমাবেশের নামে গোপনে সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য একটি মিটিয়ের আয়োজন করেছিলেন। প্রশাসন বিষয়টি জানার পর, সেই গোপন সুধী সমাবেশে যাওয়ার আগে খাদেমুল ইসলাম খুদি ব্যানার নিয়ে তিনি পালিয়ে যায়। রোষানলে সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নানান কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। ক্ষমতার কাছে থাকতে ও দলের নেতা হাসানুল হক ইনু বাঁচাতে তিনি নানা কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুদির এক বন্ধু বলেন, খুদি ছোট বেলা থেকেই ক্ষমতার লোভী ছিলেন। ছাত্রজীবনে ক্ষমতা আর পদের লোভ ছিল অন্য রকম। যদিও খুদি জাসদের রাজনীতির সঙ্গে ছাত্রজীবন থেকেই জড়িত। তারপর তিনি আ’লীগের বাহিরে কোনো কাজ করেন নাই।

আয়নাল হোসেন বলেন, এসব পল্টিবাজ নেতাদের কোন দলেই ঠিক হয়নি। তারা সব সময় ক্ষমতা ভোগ করতে চান। এই খুদিকে হাসনাতে রুমমেট দাবিদার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস জেলা এনসিপির আহ্বায়ক করতে সহায়তা করছেন।

খাদেমুল ইসলাম খুদি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে কি সিন্ধান্ত হয়েছে?, জেলার আহ্বায়ক হিসেবে আমাকে জানাতে হবে না। তারা (এনসিপি) কার সাথে জোট করছে। তাই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি।

এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই। এটা কেন্দ্রীভাবে খাদেমুল ইসলাম খুদির বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। এই টুকু শুধু জানালাম।

পড়ুন- খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় নোয়াখালীতে কোরআন খতম ও দোয়া

দেখুন- পাঁচ মিনিট দেরি, মনোনয়ন জমা দিতে না পেরে কাঁদলেন প্রার্থী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন