১৩/০২/২০২৬, ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
19 C
Dhaka
১৩/০২/২০২৬, ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

২২ দিন আমরা ত নামবো না:অন্য জেলার জেলেও যেনো চাঁদপুর সীমানায় ঢুকতে না পারে

২২ দিনের মা ইলিশের নিষেধাজ্ঞা সফল করতে পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নানা বিষয়েই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে চাঁদপুরের জেলেরা।

বিজ্ঞাপন

৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত ১২ টার পর থেকেই শুরু হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। তবে এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নদীপাড় এলাকার জেলেরা নিজেরা নদীতে নামবেন না জানিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে।

জেলেরা বলছেন, চাঁদপুর সদরের রাজরাজেশ্বরের নদীর সাথে সংযুক্ত খালের মুখগুলো বন্ধ করা জরুরী। ২ ইঞ্জিনের জেলে নৌকাকে নদীতে টার্গেট করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজরাজেশ্বরে অস্থায়ী নৌ পুলিশ ক্যাম্প ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। ওয়ারলেস বাজারসহ আশপাশের বাজারে চোরাই বরফ ঢুকতে না পারে সেদিকে তৎপরতা বাড়াতে হবে। আখনের হাটের নদীর পাড়ে অস্থায়ী ইলিশ বেচাকেনার হাট বসতে না দেয়া, নৌ সীমানায় শরিয়তপুরসহ অন্য জেলার জেলেরা যাতে ঢুকতে না পারে সেদিকে পদক্ষেপ নেয়া, শিশুদের জেলে হিসেবে নদীতে নামতে না দিতে মুছলেখা বাদ দিয়ে বিকল্প দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া, পূর্বের আটক ও গ্রেফতার এবং মামলা হওয়া জেলেদের জেলে কার্ড বাতিলের তথ্য নানা স্থানে দৃশ্যমান করার মতো কাজ করলেই এবারের মা ইলিশের অভিযান সফল হবে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক জেলে বলেন, পূর্বে যে বা যারা নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ বেচাকেনায় মামলায় পড়েছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য মামলাগুলো বাছাই করে তাদেরকে নিয়ে কঠোর বার্তা দিলে মা ইলিশের অভিযান সফল হতে পারে। একই সাথে অভিযানের ইলিশ এতিমখানায় দেয়া কার্যক্রম বন্ধ করে তা হিমাগরে সংরক্ষণে মনযোগী হওয়া প্রয়োজন। এসবকে প্রাধান্য দিয়ে অভিযান চালালেই আশা করছি এবার মা ইলিশের অভিযানে সফলতা বয়ে আনবে।

জেলে কালু বলেন, কিস্তির চাপ, ঋণের চাপ, পরিবারে অভাব অনটন সব হতাশা মাথায় নিয়েও আমরা ত চাঁদপুরের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় নদীতে নামবো না। আমাদের জাল ও নৌকা উভয়ই ডাঙ্গায় তুলে ফেলেছি। তবে অন্য জেলার জেলেরাও যাতে এ জেলার নদী সীমানায় চুরি করে এসে ইলিশ ধরতে না পারে সেদিকে জোড়ালো পদক্ষেপ দেখতে চাই।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, এই অভিযান সফল করতে আমরা একাধিক বৈঠক, সভা ও প্রচারণা করেছি। আশা করছি সকল চিন্তা-ভাবনা মাথায় রেখে আমরা অভিযান ও টহলের পরিকল্পনাগুলো সাজিয়েছি। আইন অমান্য করলে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে যেই হউক না কেনো তার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এ সময়ে এ জেলার নিবন্ধিত জেলেদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তাদের সহায়তায় সরকার খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, চাঁদপুরের ৪৫ হাজার ৬১৫ জেলে পরিবারকে এ বছর ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে, যা গতবারের তুলনায় ৫ কেজি বেশি।নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নৌপথ এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের যৌথ টিম প্রতিদিন নদীতে টহল দেবে। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে অসাধু জেলেদের নানা বিষয় নিয়ে। তবেই বড় বড় ও বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে। অভিযান সফল করতে গণমাধ্যমকর্মীদেরকেও সতর্কতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ করছি।

পড়ুন: চাঁদপুরে পিতার মৃত্যু বার্ষিকীতে অসহায়দের চিকিৎসা কোরআন খতম মিলাদ ও দোয়া

দেখুন: যেভাবে চীন তৈরি করেছে আকাশের রাজা জে টেন সি

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন