32.2 C
Dhaka
০৫/০৩/২০২৬, ১৩:৫৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আমি ইরাক থেকে সরকারের মাধ্যমে আমার স্বামীর লাশ ফেরত চাই, নিহত আজাদের স্ত্রী ময়না বেগমের আহাজারি

আমি ইরাক থেকে আমার স্বামীর লাশ ফেরত চাই। বুক চাপরে আহাজারি করতে করতে  এভাবেই আকুতি করেছিলেন ইরাক প্রবাসী নিহত আজাদ খানের স্ত্রী ময়না বেগম।

নিহত আজাদ খান  রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের  ৬ নং ওয়ার্ডের হোসেন মন্ডল পাড়ার ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে। মাত্র তিন মাস আগে দালালের মাধ্যমে ইরাক গিয়ে তিনি মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের শিকার হন।

সরেজমিন শুক্রবার বিকেলে আজাদের মুন্সিবাজারের তার শ্বশুর বাড়ীতে গিয়ে,নিহতের পরিবারেরর লোকজনের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়- ৩ মাসে আগে আজাদ ধারদেনা করে  ইরাক যান। এক সপ্তাহ আগে ইরাকের বাগদাদ শহর থেকে সে নিখোঁজ হয়।

এর মধ্যে তার কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলোনা। গত- ১৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে লিটন নামে অপর এক  ইরাক প্রবাসী  ফোন করে আজাদের পরিবারকে জানায়- আজাদকে হত্যা করে ৩ টুকরো করে লাশ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগারে ফেলে রাখা হয়ছে। শহরের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা পরিস্কার করতে এসে লাশের দুর্গন্ধ পায়। এ সময় তারা বস্তার মুখ খুলে দেখে মানুষের লাশ। তখন তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ তাদের হেফাজতে নেন।

আজাদের স্ত্রী ময়না বেগম জানান,  আমি ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে আমি আমার স্বামীকে বাবুলের মাধ্যমে  ৩ মাস আগে ইরাকে পাঠাই।  তার যে কাজ দেয়ার কথা ছিলো বাবুল তাকে সেই কাজ  না- দিয়ে অন্য একটি কাজে দেয়। আমার স্বামী বাবুলের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু বাবুল তার কোন ফোন ধরেনি। বাবুল তার ফোন ধরলে হয়তো আজ আমার স্বামীর এই করুন পরিনতি হতো না। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।

নিহত আজাদের মা বৃদ্ধা নবিরন বেগম বলেন, আমার ছেলেকে ওরা বিদেশে হত্যা করেছে।আমি এই হত্যার বিচার চাই। আমি আমার ছেলের লাশ ফেরৎ চাই।

এ বিষয়ে ইরাক থেকে মুঠোফোনে বাবু্ল বলেন, আমি ওর যেখানে দিয়ে ছিলাম সেখান থেকে কুমিল্লার  সোহাগ নামে একটি ছেলে তাকে নিয়ে অন্য জায়গার একটি দোকানে কাজে দেন। সেই দোকানের মালিক কফিল  আজাদকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কয়েকদিন ধরে বাড়িঘরের ময়লা ও আশপাশের আগাছা পরিস্কার করায়।

এর মধ্যে আমি সোহাগকে ফোন করে আজাদের খবর জানতে  চাই। সোহাগ আমাকে জানান, আজাদ কফিলের বাসায়-ই আছে। আজ শুনতে পাচ্ছি আজাদকে হত্যা করে লাশ তিন টুকরো করে ফেলা হয়েছে। আমরা ইরাকের বাংলাদেশ এম্বেসিতে বিচার দিয়েছি। এম্বেসির লোকজনসহ আমরা সেখানে যাচ্ছি। আজাদের লাশ বাগদাদের একটি মর্গে রাখা হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

পড়ুন :রাজবাড়ীতে সুদে কারবারির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন