গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ছামছুল হক মন্ডল (৭০) একসময় ছিলেন জনপ্রিয় ইউপি সদস্য। সেই সময়ে কাজ করতেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে। পরিষদের পাওয়া বরাদ্দ সবই বিলিয়ে দিতেন তাদের মাঝে। তবে নিজের জন্য কিছুই করনেনি এই মেম্বর।
বর্তমানে ছামছুল হক মন্ডলের সংসারে যেন নুন আন্তে পান্তা ফুরায়। এরই মধ্যে তার স্ত্রী প্যারালাইসেস রোগে আক্রান্ত হয়। দুই মেয়ের মধ্যে এক মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী। অপর মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। আয়ের উৎস না থাকা সংসারের দুরবস্থা বেড়েই যাচ্ছে। এ কারনে ছামছুল হক মন্ডল গলায় ফাঁস নিয়ে আত্নহত্যা করেছেন বলে জানালেন উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ইউপি সদস্য পান্না শেখ। তিনি বলেন, আর্থিক ও মানুষিক চাপের বিষয়ে ছামছুল হক প্রায়ই আমাকে বলতেন।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের চকচকিয়া গ্রামস্থ তার বাড়ির পাশে একটি বাগানের গাছ থেকে ছামছুল হক মন্ডলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। নিহত ছামছুল হক মন্ডল চকচকিয়া গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, সততার মধ্যদিয়ে ছামছুল হক মন্ডল চলাফেরা করতেন। উদার মনের এই মানুষটি খুবই আর্থিক দৈন্যদশার মধ্যে থাকতেন। টানাপোড়েনের এই সংসারে অসুস্থ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম হতাশায় ভুগতেন। এ ধরনের চাপ সামাল দিতে না পেরে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে সবার অজান্তে গলায় রশিতে ফাঁস নিয়ে আত্নহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
সাঘাটার মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আহসান হাবীব বলেন, ছামছুল হক মন্ডল এ পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন। তার আত্নহত্যার খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়েছি। শোকাহত এ পরিবারের সহযোগীতার চেষ্টা করা হবে।
পড়ুন : গাইবান্ধায় বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর


