ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও অনেক হেভিওয়েট ও পরিচিত প্রার্থী ভোটারদের মন জয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন রাজনৈতিক অঙ্গনের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মাহমুদুর রহমান মান্না থেকে শুরু করে সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ।
এছাড়া জামানত হারিয়েছেন রাজনীতির নতুন মুখ আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান, অভিনেত্রী মেঘনা আলম আর চট্টগ্রামে এনসিপির প্রার্থী আরিফ।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে লড়লেও তার প্রাপ্ত ভোট বিস্ময়করভাবে কম। তিনি ‘কেটলি’ প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট, যা মোট বৈধ ভোটের মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ। জামানত রক্ষায় তার প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩০ হাজার ৪৭৬ ভোট। একই আসনে তিনবারের সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পেয়েছেন মাত্র ৪৩৪ ভোট। ফলে হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীই তাদের জামানত হারিয়েছেন।
বগুড়া-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০২টি। যা মোট ভোটারের ৭২ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
ঢাকা-১২ আসনে আমজনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান ‘প্রজাপতি’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৪৪ ভোট। এই আসনে মোট বাতিল ভোটের সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৪টি। অর্থাৎ, বাতিল হওয়া ভোটের চেয়েও কম ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন তারেক। এই আসনে ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট।
প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে এক লাখ ২২ হাজার ২৬৮টি। যা মোট ভোটের ৩৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।
ঢাকা-৮ আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন মাত্র ৬০৮ ভোট।
এই আসনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৯০৬ ভোট। এটি মোট প্রদত্ত ভোটের মাত্র শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ। ফলে তিনিও জামানত রক্ষা করতে পারেননি। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৪টি।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী কোনও প্রার্থীর জামানত ফেরত পেতে হলে মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পাওয়া বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় এসব প্রার্থীর নির্বাচনি জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

