মুম্বাই। আলো-ছায়ার এই শহরে ভিড়ের মাঝেই জন্ম নেয় কিছু নীরব প্রেমের গল্প। যেগুলো চোখে না পড়লেও মনে থেকে যায় দীর্ঘদিন। ঠিক তেমনই এক প্রেমকথার ইশারা দেয় ‘দো দিওয়ানে শহর মে’ সিনেমায়। এই সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্রুণাল ঠাকুর ও সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ট্রেলারে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এক আধুনিক প্রেমকাহিনির আবহ, যেখানে প্রেমকে নিখুঁত রূপকথা হিসেবে নয়; বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
‘দো দিওয়ানে শহর মে’ ছবিতে ম্রুণাল ও সিদ্ধান্ত। দুজনই নিখুঁত নন। তাদের জীবনে রয়েছে অপূর্ণতা, অতীতের ভাঙন আর না-পাওয়ার ক্ষত। তারা নিজেদের ভেতরের শূন্যতা লুকিয়ে ব্যস্ত শহুরে জীবনের ভিড়ে মিশে থাকতে চায়। কিন্তু ভাগ্য যেন ধীরে ধীরে তাদের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সেই অপূর্ণতাই একসময় তাদের একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে দেয়।
বলা যায়, বিশৃঙ্খল শহুরে জীবনের মাঝে দুই অসম্পূর্ণ মানুষের ধীরে ধীরে একে অপরকে চিনে নেওয়ার গল্পই ছবির মূল সুর। ট্রেলারে নীরবতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংলাপের চেয়ে বেশি কথা বলে চোরাচোখে তাকানো, থেমে যাওয়া বাক্য, অনিশ্চিত হাসি কিংবা হঠাৎ চুপ করে যাওয়া মুহূর্তগুলো।
সম্পর্কের ভেতরের অস্বস্তি, অতীতের সিদ্ধান্তের ভার, নিজের সঙ্গে লড়াই। সব মিলিয়ে এক গভীর আবেগী স্তর তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে, যেখানে ভিড়ের মাঝেও চরিত্র দুটি ভীষণ একা। আর সেখানেই তাদের সংযোগের শুরু। সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী ও ম্রুণাল ঠাকুরের অনস্ক্রিন রসায়ন ইতোমধ্যেই দর্শকদের নজর কাড়ছে। তারা এমন দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যারা এখনও নিজেদের খুঁজে চলেছে। প্রেম এখানে গন্তব্য নয়; বরং আত্মঅন্বেষণের এক ধীর যাত্রা। প্রেমের গল্পে এই আত্মঅন্বেষণের মাত্রা খুব কমই দেখা যায়, আর সেই জায়গাতেই ছবিটি আলাদা হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
বাস্তব আবেগ, দ্বিধা, টানাপোড়েন। সব মিলিয়ে তাদের জুটিকে বছরের অন্যতম হৃদয়ছোঁয়া জুটি বলেই মনে করা হচ্ছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রবি উদয়ভার, যিনি এর আগে শ্রীদেবী অভিনীত শেষ সিনেমা ‘মম’ নির্মাণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। প্রযোজনায় রয়েছেন সঞ্জয় লীলা ভনসালি, প্রেরণা সিং, উমেশ কুমার বনসল ও ভরত কুমার রঙ্গা।
নির্মাতা এই দুই অভিনয়শিল্পীর সম্পর্ককে বর্ণনা করেছেন ‘দুটি অপূর্ণ মানুষের নিখুঁত প্রেম’ হিসেবে। এই প্রেম হঠাৎ করে এসে সব বদলে দেয় না; বরং ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করে। ঠিক স্মৃতির মতো, নীরবে কিন্তু গভীরভাবে। সম্পর্কের ভেতরে যে অপ্রকাশিত সত্য, ভাঙন আর পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া থাকে। সেই স্তরগুলোই তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। ছবির আবহ আরও গভীর করে তোলে ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া ঘরেন্দা সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘দো দিওয়ানে শহর মে’, যা গেয়েছিলেন ভূপিন্দর সিং ও রুনা লায়লা।
ট্রেলার ও টিজারে এই গানের সুরের সঙ্গে ম্রুণালের চরিত্রের যাত্রা মিশে গিয়ে তৈরি করে এক ধরনের নস্টালজিয়া, যেখানে অতীত ও বর্তমানের সীমারেখা ক্রমে ঝাপসা হয়ে যায়। পুরোনো সুরের আবেগ আর নতুন গল্পের বাস্তবতা। এই দ্বৈততা ছবিটিকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে। সব মিলিয়ে, ভ্যালেন্টাইন উইক ঘিরেই মুক্তি পেতে চলেছে ‘দো দিওয়ানে শহর মে’। আগামীকাল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি। সিনেমার টিজার আর ট্রেলার দেখেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। এখন দেখার অপেক্ষা, এই নীরব প্রেমকাহিনি দর্শকের হৃদয়ে কতটা গভীর দাগ কাটতে পারে।
পড়ুন:রমজানে প্রতিদিনের ধারাবাহিক ‘রহমত’
দেখুন:সচিবালয়ে কর্মচারীদের এক ঘণ্টার কর্মবিরতি, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা |
ইমি/


