ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উপজেলা ভূমি অফিসের জায়গায় জুলাই অভ্যুত্থাণের আয়োজন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এনসিপি’র বিরুদ্ধে। এ নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর প্রশাসন ও এনসিপির মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। চলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। সন্ধ্যায় এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এসিল্যান্ড।
আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, ‘অফিসের সীমানায় থাকা টিনের বেড়া খুলে এনসিপি’র লোকজন ঢুকে। তারা অফিস কম্পাউন্ডে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বলে জানায়। তাদেরকে অন্যত্র অনুষ্ঠান করার কথা বললেও তারা সেটি শুনতে চাননি। ইউএনও ও ওসি ওনাদের সঙ্গে কথা বললেও কোনো লাভ হয়নি। তারা বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি দেখান।’।’
ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া সাংবাদিকদেরকে জানান, এসিল্যান্ড অফিসের কম্পাউন্ডে জুলাই মঞ্চ করবে বলে আয়োজকরা চাচ্ছিলো। অনুমতি ছাড়া সরকারি অফিসের ভেতরের জায়গায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে নিষেধ করা হয়। তাদেরকে বারবার বলার পরও সেখান থেকে সরেননি।
এদিকে, এসিল্যান্ড তাহমিনা সারমিন থানায় ৪ জনের নাম সহ অজ্ঞাত আরও ২০/৩০ জনকে অভিযুক্ত করে সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, এনপিসি আশুগঞ্জ উপজেলার সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম ডালিম, যুগ্ম সমন্বয়কারি আমিনুল ইসলাম দিপু মোল্লা, সমন্বয়কারি সুমন মৃধা ও জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারি আকিব জাবেদ।
এই বিষয়ে জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারি আকিব জাবেদ বলেন, আমি অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে আশুগঞ্জের ইউএনও’কে কল দিয়েছিলাম। তিনি অনুমতি দেননি। এছাড়া উনার সাথে তেমন কথা হয়নি। উনাদের অভিযোগ মিথ্যা। অথচ একই জায়গায় ইতিপূর্বে রাজনৈতিক বিভিন্ন দলের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তখন কোন বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অনুষ্ঠানের আমাদের কর্মসূচি পালন করতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি দুঃখজনক।
আশুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল আলম জানান, আশুগঞ্জের এসিল্যান্ড ৪জনের নাম উল্লেখ্য করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
পড়ুন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সীসা কারখানায় অভিযান, তিন চীনা নাগরিকসহ ৬ জনের জেল


