রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কোনো শর্ত ছাড়াই ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি শান্তি সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন। রোববার রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন এ তথ্য জানায়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ জার্মানি, পোল্যান্ডের নেতারা ইউক্রেন সফর করে রাশিয়াকে ৩০ দিনের শর্তহীন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার আহবান জানানোর পর পুতিন এমন প্রস্তাব দিলেন।
পুতিন জানান, এই আলোচনা “সংঘাতের মূল কারণ দূর করার” এবং “দীর্ঘমেয়াদী, স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার” লক্ষ্যে হবে।
পুতিনের প্রস্তাবের কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প তার সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য এটি একটি সম্ভাব্য দুর্দান্ত দিন!” তিনি আরো লেখেন, দুই দেশের শান্তি বাস্তবায়ন করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাবেন তিনি”।
দুই দেশের প্রতি শান্তি স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, চলমান এই রক্তস্নান থেকে লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচানোর কথা ভাবতে। ইউরোপীয় নেতারা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানোর পরপরই ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া “কোনো চাপের কাছেই নতিস্বীকার করে না।”
“ইউরোপ আমাদের বিরুদ্ধেই প্রকাশ্যে দাঁড়িয়েছে,” বলেন পেসকভ। তিনি আরও বলেন, পুতিন “সাধারণভাবে” যুদ্ধবিরতির ধারণাকে সমর্থন করেন, তবে “এই প্রস্তাব নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে” যার উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সেই প্রশ্নগুলো নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা কিয়েভের সঙ্গে সরাসরি শান্তি সংলাপ শুরু করতে আগ্রহী এবং এক্ষেত্রে আমরা কোনো প্রকার পূর্বশর্ত রাখছি না। গত বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে কিয়েভের প্রতিনিধিদের এ ব্যাপারে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ’
পুতিন চান দুই দেশের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য সংলাপ তুরস্কে হোক। এই সংলাপই শেষ পর্যন্ত দুই দেশকে যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও জানান পুতিন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব টেবিলের ওপর আছে। এখন এটা ইউক্রেনের সরকার এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের ওপর নির্ভর করছে, যারা সম্ভবত জনগণের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা চালিত হয়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া ও খেরসন— চার প্রদেশের দখল নেয় রুশ বাহিনী। এই চার প্রদেশের সম্মিলিত আয়তন ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের এক পঞ্চমাংশ।
পড়ুন: ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, হতাহত ৩৭
দেখুন: অ/প/মা/নি/ত হলেন ট্রাম্প, ভেবেছিলেন ভয় পাবে রাশিয়া!
এস


