33 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ১৪:৫৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরন বন্ধ করবেনাইরান, ঘোষণা আরাকচির

কেবল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরী নয়, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এখন দেশটির জন্য আত্মমর্যাদার প্রতীক। সম্প্রতি ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানের বেশ কিছু পরমাণু স্থাপনায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবুও দেশটি জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে না। তেহরানের ভাষায়, এই কর্মসূচি শুধু বিজ্ঞানীদের কৃতিত্ব নয়, বরং তা এখন জাতীয় গৌরবের অংশ। আলজাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।

বিজ্ঞাপন

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে ক্ষতি ‘মারাত্মক’ হলেও ইরান কখনোই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না। কারণ এটি তাদের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং দেশের মর্যাদার প্রতিচ্ছবি।

আরাকচি আরও বলেন, “আমাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আমাদের বিজ্ঞানীদের অর্জন। এখন এটা জাতীয় গৌরবের বিষয়। আমরা থামতে পারি না।”

তবে আলোচনার দরজা খোলা রাখছে তেহরান। আরাকচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষ আলোচনা করতে ইরান প্রস্তুত। তবে শর্ত একটাই, আলোচনা হতে হবে “উইন-উইন” ভিত্তিতে। ইরান চায়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিলে যুক্তরাষ্ট্রকেও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

তিনি বলেন, ” আমাদের কর্মসূচি সবসময় শান্তিপূর্ণই থাকবে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রমাণ করতে যেকোনো বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে আমরা প্রস্তুত। আমরা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করব না। এর বিনিময়ে আমাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।”

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মাত্র মাসখানেক আগেও দুই দেশ আলোচনা চালাচ্ছিল নতুন একটি পরমাণু চুক্তির জন্য। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১৮ সালে একতরফাভাবে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে।

চলতি বছরের মে মাসে পরোক্ষভাবে ফের আলোচনা শুরু হয় দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু ১৩ জুন ইসরায়েলের আকস্মিক বিমান হামলায় সেই আলোচনা ভেঙে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের একাধিক সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়। এতে মারা যান ৯০০-র বেশি মানুষ।

প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলেও প্রাণ হারান কমপক্ষে ২৮ জন। ১২ দিন যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা মুখ থুবড়ে পড়ে।

এই হামলা শুধু পরমাণু স্থাপনার ক্ষতি করেনি, ভেঙ্গেছে বহু মানুষের স্বপ্ন। যেসব গবেষকরা শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের কথা ভাবতেন, তাদের অনেকেই আজ মৃত অথবা নিখোঁজ।

ইরান এখন দ্বিমুখী কৌশল নিচ্ছে। একদিকে জাতীয় গর্ব ও বৈজ্ঞানিক অর্জনকে সমুন্নত রাখা, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পথ খোলা রাখা। আলোচনায় বসা সম্ভব, যদি সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সেটি হয়, বিশ্ববাসীকে এমনই বার্তা দিচ্ছে ইরান।

এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বড় প্রশ্ন হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই সংকেত কীভাবে নেবে? আন্তর্জাতিক মহল পারবে কি দুই পক্ষকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে? নাকি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হবে?

পড়ুন: গোপালগঞ্জের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে – ফাওজুল কবীর খান

দেখুন: সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্রীকে অ/প/হ/র/ন ও ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগ |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন