ইউরোপজুড়ে ন্যূনতম মজুরিতে এখনও বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন দেশের ন্যূনতম বেতন নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ইউরোনিউজ বিজনেস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২২টি দেশে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ মানুষ ন্যূনতম মজুরি বা তারও কম আয়ে কাজ করছেন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ন্যূনতম মজুরিভোগী কোনো অতিরিক্ত সুবিধা পাননি। এমনকি চারটি দেশে এক বছরেও ন্যূনতম মজুরি বাড়েনি।
সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মজুরি
২০২৬ সালের জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, ইইউ দেশগুলোর মধ্যে মাসিক মোট ন্যূনতম মজুরি সবচেয়ে কম বুলগেরিয়ায়—৬২০ ইউরো। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি লুক্সেমবার্গে—২ হাজার ৭০৪ ইউরো।
ইইউ প্রার্থী দেশগুলো যুক্ত করলে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়। সবচেয়ে কম ন্যূনতম মজুরি ইউক্রেনে—১৭৩ ইউরো। এরপর রয়েছে মলদোভা, যেখানে মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩১৯ ইউরো।
মাসিক ২ হাজার ইউরোর বেশি ন্যূনতম মজুরি রয়েছে মাত্র পাঁচটি দেশে—লুক্সেমবার্গ (২,৭০৪ ইউরো), আয়ারল্যান্ড (২,৩৯১ ইউরো), জার্মানি (২,৩৪৩ ইউরো), নেদারল্যান্ডস (২,২৯৫ ইউরো) ও বেলজিয়াম (২,১১২ ইউরো)। এদের পরেই রয়েছে ফ্রান্স, যেখানে ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৮২৩ ইউরো। স্পেনে মাসিক ন্যূনতম বেতন ১ হাজার ৩৮১ ইউরো।
স্পেন, স্লোভেনিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, সাইপ্রাস, পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া ও গ্রিস মধ্যম স্তরের মজুরির দেশ হিসেবে বিবেচিত।
এক হাজার ইউরোর নিচে অর্ধেকের বেশি দেশ
ইইউভুক্ত ২২টি দেশ ও ৭টি প্রার্থী দেশ মিলিয়ে মোট ২৯ দেশের মধ্যে ১৫টিতেই ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ইউরোর কম। সব প্রার্থী দেশই এই নিম্নস্তরে রয়েছে।
চেকিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৯২৪ ইউরো, হাঙ্গেরিতে ৮৩৮ ইউরো, রোমানিয়ায় ৭৯৫ ইউরো, তুরস্কে ৬৫৪ ইউরো এবং আলবেনিয়ায় ৫১৭ ইউরো। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইইউ প্রার্থী তিনটি দেশের ন্যূনতম মজুরি বুলগেরিয়ার চেয়েও বেশি।
ক্রয়ক্ষমতায় ব্যবধান কমে
শুধু ইউরো হিসেবে তুলনা করলে প্রকৃত অবস্থা পুরোপুরি বোঝা যায় না, কারণ দেশভেদে জীবনযাত্রার খরচ ভিন্ন। তাই ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিএস) অনুযায়ী হিসাব করলে দেশগুলোর মধ্যে পার্থক্য অনেকটাই কমে আসে।
পিপিএস অনুযায়ী ইইউভুক্ত ২২টি দেশের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি সবচেয়ে কম এস্তোনিয়ায়—৮৮৬ এবং সবচেয়ে বেশি জার্মানিতে—২ হাজার ১৫৭।
ইউরো ও পিপিএস—দুই ধরনের হিসাবেই শীর্ষ নয়টি দেশের অবস্থান একই থাকলেও মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর অবস্থানে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। রোমানিয়া ইউরো হিসাবে ২০তম স্থান থেকে পিপিএস হিসাবে ১২তম স্থানে উঠে এসেছে। নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া ও তুরস্কও কয়েক ধাপ এগিয়েছে। অন্যদিকে চেকিয়া ও এস্তোনিয়া সবচেয়ে বেশি পিছিয়েছে।
যেসব দেশে মজুরি বাড়েনি
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে বেলজিয়াম, এস্তোনিয়া, গ্রিস, স্পেন, লুক্সেমবার্গ ও স্লোভেনিয়ায় ন্যূনতম মজুরি অপরিবর্তিত ছিল।
অন্যদিকে একই সময়ে বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, লিথুয়ানিয়া ও স্লোভাকিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ১১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
পড়ুন:জুনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে স্কয়ার গ্রুপ
দেখুন:বানিয়ে ফেললো ইরান, শুধু ঘোষণার অপেক্ষা!
ইমি/


