বিজ্ঞাপন

ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত দুই বন্দরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত দুটি বন্দরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এরপরই হুথি বিদ্রোহীদের নেতৃত্বকে সরাসরি হুমকি দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার (১৬ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলের দিকে হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে তারা ইয়েমেনের হোদাইদাহ এবং আস-সালিফ বন্দরে হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জবাবে তারা ইয়েমেনের হোদাইদাহ এবং আস-সালিফ বন্দরে হামলা চালায়। এই হামলা সেই সময়েই করা হলো যখন হুথি গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মত হয়।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা ও আস-সালিফ বন্দরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো  লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। হুথিদের এই দুটি বন্দর অস্ত্র স্থানান্তরের জন্য ব্যবহার করতো বলে দাবি তাদের।

হুথিদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানায়, লোহিত সাগরের বন্দর হোদেইদা এবং এর উত্তরের বন্দর সালীফে একাধিক বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের ১৫টি যুদ্ধবিমান হুথি নিয়ন্ত্রিত লক্ষ্যবস্তুতে ৩০টিরও বেশি বোমা নিক্ষেপ করে। তারা দাবি করে, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত এসব বন্দর অস্ত্র পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুথিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ইসরায়েলও শুরু করে পাল্টা হামলা, যার মধ্যে গত ৬ মে’র একটি হামলায় ইয়েমেনের রাজধানী সানার প্রধান বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন নিহত হন।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে হুথিদের যুদ্ধবিরতি হয়। চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হামলা বন্ধ করে আর হুথিরা লোহিত সাগরের নৌপথে হামলা বন্ধে সম্মত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের এই চুক্তি সম্পন্ন হবার পর এটিই ছিলো হুথিদের ওপর প্রথম ইসরায়েলি হামলা।

গত শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, এই হামলা “শুধু শুরু” মাত্র। তিনি হুথিদের “কেবল একটি হাতিয়ার” হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ তোলেন যে “তাদের পেছনে রয়েছে ইরান”।

তিনি বলেন, “আমরা চুপ করে বসে থাকব না এবং হুথিদের আমাদের ক্ষতি করতে দেব না। তাদের নেতৃত্ব ও অবকাঠামোগুলোতে আমরা আরো জোড়ালোভাবে আঘাত করবো।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে যদি হুথিরা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া বন্ধ না করে তাহলে হুথি নেতা আবদেল-মালিক আল-হুথিকে ধরে নির্মূল করা হবে।

কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘হুথিরা যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তবে গাজায় নিহত হামাস নেতা মুহাম্মদ দেইফ ও সিনওয়ারদের মতো পরিণতি হুথি নেতাদেরও হবে।’

জর্দানের রাজধানী আম্মান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হামদাহ সালহুত জানিয়েছেন, ইসরায়েল মার্চ মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার পর থেকে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং হুথিরা “কমপক্ষে ৩৪টি প্রজেক্টাইল” ইসরায়েলে নিক্ষেপ করেছে।

হুঁশিয়ার দিয়ে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল এখন থেকে পাল্টা আক্রমণের নীতি অনুসরণ করবে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে তারা এ ধরনের বিমান হামলা চালাবে বলে জানান তিনি।

জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক দূত হান্স গ্রান্ডবার্গ এই পাল্টাপাল্টি হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে ইয়েমেন কতটা আঞ্চলিক সংঘাতের ফাঁদে পড়েছে।’

এনএ/

দেখুন: ইয়েমেনের পাশে রাশিয়া

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন