২৫/০২/২০২৬, ২২:১২ অপরাহ্ণ
25.2 C
Dhaka
২৫/০২/২০২৬, ২২:১২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে স্পষ্টতা চায় তেহরান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতি হলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে তেহরান।

বিজ্ঞাপন

সাত সপ্তাহের টানা আলোচনা শেষে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব পেয়েছে ইরান। এমনটাই দাবি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই আলোচনার শেষ ধাপে এসে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা।

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানেরপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, “চুক্তি বাস্তবায়নের আগে কীভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।” তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন থেকে এই বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বার্তা পাওয়া যায়নি।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানকে সব ধরনের ইউরেনিয়াম মজুদ বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইরান বলছে, তারা এখনও বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে রেখেছে।

জাতিসংঘের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে। যদিও এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের চেয়ে কম, তবুও পারমাণবিক জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় ৪ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিসংখ্যান ঘিরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমা বিশ্বে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা নিয়ে প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিনিধি স্টিভ উইটকভ জানান, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘চরম ক্ষুব্ধ’। তিনি এটিকে ‘রেড লাইন’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন বলে জানান তিনি।

হোয়াইট হাউস অবশ্য বলছে, তাদের প্রস্তাবই ইরানের জন্য ‘সর্বোত্তম সুযোগ’। যদিও তেহেরান স্পষ্ট করেছে, কোনো প্রস্তাব গ্রহণের মানেই তা মেনে নেওয়া নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘেই আবারও জোর দিয়ে বলেন, “ইরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করে যাচ্ছে।”

জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইরান। তাদের অভিযোগ কিছু পশ্চিমা দেশ জাতিসংঘের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ইরানের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

সবমিলিয়ে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহেরান-ওয়াশিংটন আলোচনায় আপাত অগ্রগতি দেখা গেলেও, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইউরেনিয়াম কার্যক্রমের মতো বিষয়গুলোই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে প্রধান অন্তরায়। নতুন এই চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করছে পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রতিশ্রুতির ওপর। সময়ই বলে দেবে, এই ঐতিহাসিক আলোচনার ফল কী দাঁড়ায়।

এনএ/

দেখুন: ইরান যেভাবে বিশ্বের সবচেয়ে অপ্রতিরোধ্য দেশ হয়ে উঠেছে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন