বিজ্ঞাপন

ইরানের হামলায় কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ

ইরানের ড্রোন হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে কাতার। গতকাল সোমবার ইরানের ড্রোন দুটি স্থানে আঘাত হানে। এরমধ্যে একটি মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে। আরেকটি কাতার এনার্জির লাস রাফফানে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তরল গ্যাস উৎপাদনকারী।

লাস রাফফানে উৎপাদিত গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

যদিও এ হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে কাতার এনার্জি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।

কাতার এমন সময় গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিলো যখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজে অন্তত ১৫০টি জাহাজ নোঙর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। যারমধ্যে আছে গ্যাসবাহী জাহাজও।

হরমুজ দিয়ে গ্যাস সরবরাহ ইতিমধ্যে ৮৬ শতাংশ কমে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৭০০টি জাহাজ হরমুজের দুই প্রান্তে অলস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বিশ্বব্যাপী যত গ্যাস রপ্তানি হয় তার ২০ শতাংশ হয় কাতার থেকে। যেহেতু সাধারণের তুলনায় খুব কম গ্যাস এখন বিশ্ববাজারে যাচ্ছে, ফলে দাম বেড়ে গেছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধের কারণে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। কারণ কাতার থেকে এ তিন দেশ গ্যাস আনে।

চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক। কিন্তু তাদের বেশিরভাগ গ্যাস আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে (প্রায় ৩৪ শতাংশ)।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাকসিম সোনিন বলেছেন, কাতার এনার্জির গ্যাস উৎপাদন বন্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ক্রাইসিস’ বলা যাবে না।

তিনি বলেছেন, যদি কাতারের গ্যাস উৎপাদন অবকাঠামো ও হাবে আঘাত করা হয় তাহলে সামনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা দেখা যাবে।

বিশ্বে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গ্যাস রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্র, এরপর অস্ট্রেলিয়া। তার পরের অবস্থানেই রয়েছে কাতার।

কিন্তু ২০২২ সালের আগে রাশিয়া ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাস রপ্তানিকারক। ওই বছর দেশটি ইউক্রেনে হামলা করার পর অনেক দেশ তাদের থেকে গ্যাস আনা বন্ধ করে দেয়।

সূত্র: আলজাজিরা

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর পরিণতি ঘিরে অনিশ্চয়তা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন