বিজ্ঞাপন

ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য ছারখার করার হুমকি ট্রাম্পের

ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটির পুরো জ্বালানি বাণিজ্য ছারখার করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় এ হুমকি দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলার একটি পরিচালনা করেছে এবং ইরানের মুকুট রত্ন, খার্গ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে।”

খার্গ দ্বীপের সামারিক স্থাপনাগুলোতেই কেবল হামলা করা হয়েছে এবং সেখানে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের স্থাপনাগুলো এখনও অক্ষত আছে উল্লেখ করে ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমি দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ইরান, কিংবা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার জন্য কিছু করলে, আমি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।”

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরের ইরানের উপকূল থেকে ২৬ কিলোমিটার এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত ৫ বর্গমাইল আয়তনের খার্গ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের ‘প্রাণ’ হিসেবে পরিচিত। দেশটির ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরল গ্যাসের চালান এই দ্বীপ থেকেই বহির্বিশ্বে যায়। কৌশলগতভাবেও এ দ্বীপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধার পর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে এই প্রণালি দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। গত দু’সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার শিকার হয়েছে এক ডজনেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধের কারণে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল রপ্তানি বন্ধ আছে, তবে খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে ইরান তার জ্বালানি তেলের চালান বহির্বিশ্বে পাঠানো অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল ও তরল গ্যাসের চালান আসে, তার ১০ শতাংশ তেল ও ১২ শতাংশ তরল গ্যাস সরবরাহ করে ইরান। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যদি খার্গ দ্বীপের জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামোতে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়, তাহলে বর্তমান যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরান সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না।

পড়ুনঃশিশুপ্রহর শেষ আজ, বইমেলা শেষ কাল

ইমিঃ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন