ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বিমান হামলার পর এবার পেন্টাগন থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ একে ‘অবিশ্বাস্য এবং অভূতপূর্ব সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
আজ রবিবার (২২ জুন) ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়।
রবিবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যরাতে চালানো এই হামলা ছিল নির্ভুল, শক্তিশালী এবং লক্ষ্যভিত্তিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল কেবলমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা, ইরানি সেনা বা সাধারণ নাগরিক নয়।
তার ভাষ্যমতে, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও ইরানের দাবি, তারা মার্কিন হামলার আগেই পারমাণবিক স্থাপনাগুলো খালি করে ফেলেছিলো।
এদিকে, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, এই হামলা ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বি-২ বোমারু অভিযানের একটি। তিনি বলেন, ইরান কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি, না আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে, না যুদ্ধবিমান দিয়ে।
জেনারেল কেইন জানান, এই অভিযান পরিচালনার জন্য সাতটি বি-২ স্পিরিট বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে ইরানের দিকে পাঠানো হয়। দুটি পারমাণবিক স্থাপনায় ফেলা হয় ১৪টি “ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর” বা এমওপি বোমা, যেগুলোর প্রতিটির ওজন প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড। এগুলো এই প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলো।
এছাড়া একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের ইসফাহান অঞ্চলে ছুড়েছে ২৪টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। পুরো অভিযানে অংশ নেয় ১২৫টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল একাধারে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল এক অভিযান।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হেগসেথ বলেন, “অনেক প্রেসিডেন্ট ইচ্ছা করলেও ইরানের পারমাণবিক স্থানায় আঘাত হানতে না পারলেও যুক্তরাষ্ট্র তা সফল করে দেখিয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প যখন কিছু বলেন, বিশ্বকে তা শুনতে হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীই তার প্রমাণ দিতে সক্ষম।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না, তবে জনগণ, মিত্র বা স্বার্থ আক্রান্ত হলে তারা দ্রুত ও কঠোর জবাব দেবে। হেগসেথ ইরানকে সতর্ক করে বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে মারাত্মক ভুল।”
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকেই ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জন্য দায়ী করেছেন। আল জাজিরায় প্রকাশিত মন্তব্যে তিনি বলেন, “প্রথমে তারা নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়ার পর তারা প্রকাশ্যে এসেছে।”
পেজেশকিয়ান বলেন, “ইসরায়েলের দুর্বলতা প্রকাশের পর আজ তারা সরাসরি সামনে এসেছে। এখন সময় দেশের জনগণের বিপুল সক্ষমতা একত্রিত করে সব ভিন্নতা ভুলে জাতীয়ভাবে সক্রিয় হওয়ার।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা আপাতত আর কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে না। তবে ইরান যদি পাল্টা আক্রমণে যায়, তাহলে মার্কিন বাহিনী দ্রুত এবং সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে জবাব দিতে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক উত্তেজনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত এখানেই থেমে যায়, নাকি আরও বিস্তার লাভ করে।
এনএ/


