বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭১ দশমিক ০১ ডলারে পৌঁছেছে। শুধু জানুয়ারি মাসেই এই তেলের দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশ, যা বিগত চার বছরের মধ্যে যেকোনো একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি।
একই গতিতে বাড়ছে আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দামও। এদিন ডব্লিউটিআই-এর দাম ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৫ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই দেশটিতে কোনো বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালায়, তবে এই বিশাল সরবরাহ এক নিমেষেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে নতুন ঢেউ তৈরি হবে, তা সামাল দেওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ জন ইভান্সের জানান, বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’। যদি তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে এই জলপথটি বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারের প্রতিদিনের সরবরাহের প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকে যাবে। এমন শঙ্কার মাঝেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্ট উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, একটি বিশালাকার নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনে তারা ‘চরম গতি ও ভয়াবহ শক্তি’ নিয়ে আক্রমণ করতে প্রস্তুত। এই সামরিক হুমকির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পণ্যবাজারে।
পড়ুন : সময় ফুরিয়ে আসছে, চুক্তি না করলে ভয়াবহ হামলা: ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুমকি


