ইসরায়েলের ওপর ইয়েমেনের হুতিদের আবার হামলা শুরু হওয়া দেশটির জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে; যদিও এটি বড় কোনো সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করার সম্ভাবনা কম। তবে হুতিরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এর প্রভাব হবে নাটকীয়।
বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়াতে লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাচ্ছে। এশিয়ার বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো এ তেলের জাহাজগুলো ইয়েমেনের পাশ দিয়ে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫-এর শুরু পর্যন্ত হুতিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে প্রায় ২০০টি হামলা চালিয়েছে। এতে ৩০টির বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাই করা হয়েছে। ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
ইরান যদি কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং একই সঙ্গে হুতিরা লোহিত সাগরের পথটিও বন্ধ করে দেয়, তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথের এ যুগপৎ বন্ধ হওয়া বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এবং একাধিক ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের প্রচণ্ড চাপে সেনাবাহিনী ‘ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার’ বা ‘পতনের’ ঝুঁকিতে রয়েছে।
সম্প্রতি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জামির বলেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সৈন্যদলের তীব্র সংকট।
ইরান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করতে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামীকাল রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছেন। দুই দিনের ওই বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এ কথা জানিয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। দেশটি দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদানও করছে। পাকিস্তানের এই উদ্যোগের সঙ্গে তুরস্ক ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ যুক্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্স–এ এক বার্তায় জানিয়েছেন, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘গভীর আলোচনা’ করবেন, যেখানে ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের প্রচেষ্টা’ সম্পর্কিত আলোচনাও হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

