ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন এমন দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে ইরান নিশ্চিত করেছে, আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলী শামখানি এখনো জীবিত। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গুরুতর আহত হলেও চিকিৎসার পর বর্তমানে শামখানি আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় আছেন।
সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ির উপদেষ্টা আলী শামখানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছিল ইসরায়েল। তবে এ তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। পরবর্তীতে অবশ্য ইসরায়েলের সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলের ১৩ জুনের প্রথম দফার বিমান হামলার পর থেকেই ছড়িয়ে পড়ে শামখানির মৃত্যুর খবর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, এমনকি ইরানের নিজস্ব কিছু গণমাধ্যমও প্রথমে তার ‘শহিদ হওয়ার’ কথা জানায়।
শাখানির মৃত্যুর এই খবরে আন্তর্জাতিক মহলে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। কারন শামখানি শুধু রাজনৈতিক উপদেষ্টা নন, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ইরানের অন্যতম মুখ্য পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত তিনি।
শাখানির এই বেঁচে থাকার প্রকৃত খবর প্রকাশ হতে সপ্তাহখানেক সময় লেগে যায়। গত শুক্রবার একটি বার্তায় শামখানি নিজেই জানান, তিনি জীবিত এবং ইরানের জন্য জীবন দিতে সদা প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় এখন তিনি সুস্থতার পথে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে আসে একটি বড় বিভ্রান্তি। আইআরজিসি-নিয়ন্ত্রিত ফার্স নিউজ এবং আধা-সরকারি মেহর নিউজ প্রথমে শামখানির মৃত্যুর খবর দিলেও, পরবর্তীতে তার জীবিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং নতুন বিবৃতি প্রকাশ করে।
শামখানির জীবিত থাকা কেবল ব্যক্তি নয়, কৌশলগত দিক থেকেও ইরানের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, চলমান যুদ্ধাবস্থায় এই ধরনের গুজব শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ১৩ জুন ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হয় এই নতুন উত্তেজনা। ইরানজুড়ে সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় একযোগে আঘাত হানে তেলআবিব। জবাবে ইরানও চালায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন ইসরায়েলি নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ গেছে অন্তত ৬৩৯ জনের, আহত হয়েছেন আরও ১,৩০০ জনের বেশি।
শামখানির জীবিত থাকার বিষয়টি এই অবস্থায় এক ধরনের স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে ইরানের ভেতরে। এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, তথ্যযুদ্ধ এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও একটি বড় কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনএ/


