29.6 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩, ২০২৫

ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের মুখপাত্র নিহত

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানুয়া গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) আল জাজিরা এবং কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক এই তথ্য জানিয়েছে। হামাসের এই মুখপাত্র জাবালিয়া এলাকায় নিজের তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়ার সময় হামলা চালায় বাহিনী, এতে তিনি প্রাণ হারান। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েল গাজায় তাদের বিমান হামলা পুনরায় শুরু করার পর থেকে হামাসের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে সংঘটিত এই হামলায় আল-কানুয়া মারা যান, তবে নিহতদের তালিকা এখানেই শেষ হয়নি। পৃথক এক হামলায় গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ছয়জন এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় একজন নিহত হয়েছেন বলে মেডিকেল সূত্রে জানানো হয়েছে।

গত মার্চ মাসের ১৮ তারিখ থেকে ইসরায়েল গাজায় বিমান হামলা পুনরায় শুরু করে এবং এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮৩০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৮০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর এই বর্বর হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে। এই হামলার কারণে গাজার সাধারণ মানুষ, শিশু, বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানুয়া নিহত হওয়ার পর থেকে হামাসের উর্ধ্বতন নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হামলায় তার পাশাপাশি কয়েকজন সহকর্মীও আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একাধিক শীর্ষ নেতাও রয়েছেন।

এদিকে, এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে বিমান হামলা চালায়, এতে পাঁচজন নিহত হন, তাদের মধ্যে ছিলেন হামাসের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান ইসমাইল বারহুম। একই দিনে, যুদ্ধবিমান খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থলে হামলা চালিয়ে হামাসের রাজনৈতিক নেতা সালাহ আল-বারহুম এবং তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে।

ইসরায়েলি বিমান হামলা চলিয়ে যাচ্ছিল এবং এখন পর্যন্ত এই হামলায় অনেক বেসামরিক নাগরিকসহ হামাসের শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানানো হলেও, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা থামেনি। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

গাজার এই অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে দিন দিন মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা দায়ের করা হতে পারে। ফিলিস্তিনিরা দাবি করছে, তাদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা দরকার, যেন এই আগ্রাসন বন্ধ হয়।

পড়ুন: ফিলিস্তিনি শিশুদের ‘মৃত্যুদণ্ড’ দেয়ার পরামর্শ রাষ্ট্রদূতের

দেখুন: মিশর-ইসরাইল যু/দ্ধে/র দোরগোড়ায়! এক দিনেই তেল আবিব দখলের হু/

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিশেষ প্রতিবেদন