আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই সড়ক—ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জ অংশে যানবাহনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।
প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে এই দুই সড়ক দিয়ে দেশের প্রায় ৪৪ জেলার মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এর মধ্যে ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার যাত্রীরা চলাচল করেন। অন্যদিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে পূর্বাঞ্চলের ২৩ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। তবে মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় একসঙ্গে অনেক যানবাহন পৌঁছালে সাময়িক যানজটের আশঙ্কা থাকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ বলেন, ঈদের ছুটির দিন থেকে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা বুথ রাখা হবে। পাশাপাশি টোল প্লাজায় ১৪ জন অতিরিক্ত টোল কালেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও টোল আদায় কার্যক্রম বন্ধ না থাকে।
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ কামাল আকন্দ বলেন, মূলত ইউটার্ন থেকে উল্টো পথে গাড়ি চলাচলের কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে থ্রি-হুইলারগুলো অনেক সময় উল্টো পথে চলাচল করে থাকে। তবে এখন থেকেই এসব নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়েছে এবং ঈদের আগেই তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ মহাসড়কে কোনো হাট-বাজার না থাকায় বড় ধরনের যানজটের সম্ভাবনা কম। তবে কোনো গাড়ি হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে সেটি অপসারণ করতে যতটুকু সময় লাগে, ওই সময়টুকু ছাড়া অন্য কোনো কারণে যানজটের আশঙ্কা নেই।
যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের ৩০ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ৫০ জন সদস্য এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সড়কের পাশে থাকা পেট্রোল পাম্প ও রেস্টুরেন্টগুলোর কর্মীরাও সহযোগিতা করবেন।
এছাড়াও এ রুটে ১৪টি হোটেল ও ১২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে দুইজন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের জ্যাকেট প্রদান করা হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করা হবে। কোথাও যানজট সৃষ্টি হলে তারা দ্রুত পুলিশকে জানাবেন। কোনো গাড়ি ধীরগতিতে চললে তার কারণ জানতে মোটরসাইকেল টহল থাকবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ অংশে থাকা পাঁচটি ইউটার্নে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
হাসারা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই। তবে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে সেতুর সবগুলো লেন খুলে দেওয়া হবে, যাতে যান চলাচল দ্রুত করা যায়।
তিনি জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসনাবাদ, আব্দুল্লাপুর, বাবুবাজার ও ছনবাড়ীসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিন-রাত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো কোনো ঘটনা না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, এ রুটে ৩০ জন স্থানীয় পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বাইরের আরও ১৪ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশ আব্দুল্লাপুর সার্ভিস লেনে কাজ করবে।
তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলে টোল প্লাজায় সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি। যদিও এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই বলেও উল্লেখ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পড়ুন- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ


