টানা নয়দিন ঈদের ছুটিতে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির সব দর্শনীয়স্থানগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। শহরের যান্ত্রিকতার কোলাহল ভুলে প্রকৃতির কোলে সময় কাটাতে হ্রদ পাহাড়ের শহর রাঙামাটিতে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। এতে চাঙা হচ্ছে পাহাড়ের পর্যটনকেন্দ্রিক খাতসংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত দুয়েকদিন ধরে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, ডিসি বাংলো, পলওয়েল পার্ক, রাজবাড়ি, কাপ্তাই লেক, আসামবস্তি- কাপ্তাই সড়কসহ ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠা নীলাঞ্জনা রিসোর্ট, রাঙাদ্বীপ, বেরান্যে লেক, ইজোর, রাইন্য টুগুনসহ দৃষ্টিনন্দন মনোমুগ্ধকর জায়গাগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে। পরিবার, প্রিয়জন ও আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা রাঙামাটির দর্শনীয় জায়গায়গুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আবার অনেকে কাপ্তাই হ্রদে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে ভেসে বেড়াচ্ছেন।

পর্যটন নৌ-যান ঘাটের লাইনম্যান মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে রাঙামাটির পর্যটন স্পষ্টগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। আমাদের বোট চালক ও মালিকরা খুব ব্যস্তটার সময় পার করতেছে। পর্যটকরা বোটে করে কাপ্তাই লেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়েছে। আমাদের বর্তমানে ৬০ হতে ৭০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে ও ভালো পর্যটকের সমাগম ঘটবে। আমরা আশা করছি গত বছরের তুলনায় এ বছর রাঙামাটিতে রেকর্ড সংখ্যকের সমাগম ঘটবে।

এদিকে, মেঘের রাজ্য নামে খ্যাত সাজেক ভ্যালিও এখন পর্যটকে মুখরিত। মেঘ পাহাড়ের মিতালি সৌন্দর্য দেখতে সাজেকে ছুটছেন পর্যটকরা। সেই সঙ্গে বেড়েছে রিসোর্ট কটেজগুলোর আগাম কক্ষ বুকিংয়ের হিড়িক।
সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতির তথ্যমতে, সাজেকে ১২৬টি রিসোর্ট কটেজের মধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩৫টি রিসোর্ট কটেজ পুড়ে গিয়ে বর্তমানে ৯১টি রিসোর্ট কটেজ রয়েছে। এসব রিসোর্ট কটেজে বর্তমানে ৬০ হতে ৭০ শতাংশ বুকিং রয়েছে।

সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, সাজেকে মোটামুটি ভালো পর্যটকের সমাগম ঘটছে। আমাদের রিসোর্ট কটেজ গুলোতে বর্তমানে ৬০ হতে ৭০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকে হয়তো গতবারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাজেকের সব রিসোর্ট কটেজ পুড়ে গেছে বলে মনে করতে পারে। আসলে তা নয়, আমাদের ১২৬ টি রিসোর্ট কটেজের মধ্যে বর্তমানে ৯১টি রিসোর্ট কটেজ রক্ষিত রয়েছে। এ ৯১টি রিসোর্ট কটেজে অনায়াসে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার পর্যটক থাকতে পারবে।


