বিজ্ঞাপন

ঈদের দ্বিতীয় দিনে আখাউড়ার শিশু পার্কে আনন্দের ঢল

ঈদের আনন্দ কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে থাকে না। তা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের ভিড়ে, শিশুদের হাসিতে, আর বিকেলের নরম আলোয়। আখাউড়ার আয়জা শিশু পার্ক যেন সেই ছড়িয়ে পড়া আনন্দেরই এক রঙিন ঠিকানা।

রোববার, ঈদের দ্বিতীয় দিন। বিকেল নামতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের খালাজুড়া এলাকার ছোট্ট এই পার্কে জমে ওঠে মানুষের ভিড়। দোলনার ওঠানামা, রাইডের ঘূর্ণি আর শিশুদের টুকটুক হাসিতে পার্কজুড়ে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ—যেন ঈদের আনন্দ এখানে নতুন করে জন্ম নেয়।

পার্কে আসা পরিবারগুলোর চোখেমুখে খুঁজে পাওয়া যায় স্বস্তির ছাপ। শিশুদের হাত ধরে আসা বাবা-মায়েদের ক্লান্তি মিলিয়ে যায় সন্তানের হাসিতে। অভিভাবক ফরহাদ হোসেন বলেন, “উপজেলায় এটাই একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র। তাই ঈদে বাচ্চাদের নিয়ে আসার জন্য এই জায়গাটাই আমাদের ভরসা।”

ভিড় থাকলেও বিরক্তি নেই—বরং সেই ভিড়ই যেন আনন্দের আরেক নাম। অচেনা মানুষের মাঝেও তৈরি হয় এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন। অভিভাবক নাছিমা বেগম বলেন, “এখানে এসে মনে হয় সবাই একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করছি।”

শিশুদের বায়না মেটাতে অনেকেই ছুটে এসেছেন এই পার্কে। অভিভাবক আসাদ বলেন, “ছোট হলেও এই আয়োজনেই বাচ্চারা খুশি। তাদের হাসিই আমাদের আনন্দ।” ছোট্ট কণা জানায়, “সব রাইডে চড়েছি, খুব ভালো লাগছে।”

পার্ক কর্তৃপক্ষের আব্দুল আজিজ জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা থাকে পার্কটি। বিকেলের পরই ভিড় বাড়ে। শিশুদের জন্য রয়েছে প্রায় ১০টি রাইড। ঈদ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি, যাতে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন।

শহরের ব্যস্ততার ভিড়ে এই ছোট্ট পার্ক যেন স্বস্তির এক টুকরো দ্বীপ। দোলনার ঘূর্ণি, বাতাসে ভেসে আসা হাসির শব্দ আর সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে আয়জা শিশু পার্ক হয়ে ওঠে এক জীবন্ত উৎসবের প্রতিচ্ছবি।

এখানে ঈদ শুধু একটি দিন নয়, এক অনুভূতি—যা শিশুদের চোখে ঝিলিক তোলে, আর বড়দের মনে রেখে যায় নরম, দীর্ঘস্থায়ী এক আনন্দের ছাপ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কুড়িগ্রামে কৃষকের ঈদ আনন্দ উদযাপন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন