ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরজীবনে একটু ছুটি পেলেই অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে যেতে চান। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে স্বল্প দূরত্বে কোথাও ঘুরে আসতে চাইলে রাজধানীর কাছেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জনপদে রয়েছে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান, যা প্রতিনিয়তই আকর্ষণ করছে ভ্রমণপিপাসু মানুষদের।
সোনারগাঁওয়ের উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক পানাম নগরী, যেখানে এখনও দাঁড়িয়ে আছে প্রায় চার শতাধিক বছরের পুরোনো প্রাচীন স্থাপনা। একসময় এটি ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পুরোনো ইটের তৈরি সারিবদ্ধ দালানগুলো যেন অতীত ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আজও পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
এছাড়া রয়েছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, যেখানে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ শিল্পকর্মের অসংখ্য নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। জাদুঘরের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের কারুশিল্প, মৃৎশিল্প, নকশিকাঁথা, কাঠের কাজসহ নানা ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
দর্শনার্থীদের কাছে আরেকটি জনপ্রিয় স্থান হলো বাংলার তাজমহল, যা ভারতের তাজমহলের আদলে নির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। এর পাশেই রয়েছে ছোট আকারের পিরামিড, যা পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা মায়াদ্বীপ হতে পারে অনন্য একটি জায়গা। সবুজে ঘেরা এই দ্বীপে গেলে প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন পর্যটকরা। নদীর তীরে বসে সূর্যাস্ত দেখাও অনেকের কাছে বাড়তি আনন্দ এনে দেয়।
এছাড়াও প্রায় পাঁচ শতাব্দী পুরোনো গোয়ালদী শাহী মসজিদ সোনারগাঁওয়ের আরেকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। সুলতানি আমলে নির্মিত এই মসজিদটি প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর একটি অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। তাই
ঈদের ছুটিতে এসব স্থানে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটকের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। খুব অল্প সময়েই ঢাকা থেকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা হয়ে সহজে এসব দর্শনীয় স্থানে পৌঁছানো যায়।
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য সমন্বয়ে সোনারগাঁও এখন ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে ঈদের ছুটিতে ঘুরে দেখার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে
পড়ুন:মেহেরপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
দেখুন:শিক্ষার্থী নি/হ/তে/র পর পলাতক শহীদ ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষকরা |
ইমি/


