বিজ্ঞাপন

ঈদে দুর্ভোগের আরেক নাম ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান প্রবেশপথ মাদারীপুর- ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক এখন দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এ দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা।হাইও পুলিশের তথ্য মতে ২০২৫-২৬ সালে এ সড়কে দুর্ঘটনায় অন্তত হাজারের মত আহত হয়েছে মৃত্যু হয়েছে তিন শতাধিক অধিক।
রবিবার (১৫মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মস্তাপুর বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র।

বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অধিকাংশ মহাসড়ক একাধিক লেনে উন্নীত হলেও ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের বড় অংশ এখনও সরু ও এক লেনের মতোই ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করছে ধীরগতির অবৈধ যানবাহন। ফলে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট এবং বাড়ছে যাত্রীদের দুর্ভোগ। দ্রুত এসব ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কটি একাধিক লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কটির প্রস্থ মাত্র ১৮ থেকে ২৪ ফুট। এর মধ্যে অনেক স্থানে অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই নড়বড়ে।১৯৬০ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে মাত্র পাঁচ টন বহনক্ষমতা ও ১২ ফুট প্রস্থের এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে দুই পাশে আরও ৬ থেকে ১০ ফুট সম্প্রসারণ করা হলেও সড়কটির বহনক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়নি। অথচ গত ছয় দশকে যানবাহনের চাপ কয়েকশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।অন্য মহাসড়কের তুলনায় সরু এই সড়কে ধীরগতির অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে যাত্রীদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং বাড়ছে দুর্ভোগ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। ফলে অনেকের কাছে এই মহাসড়ক এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।


সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ ছাড় করা হয় এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত নকশা জমা দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটির তেমন অগ্রগতি হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণের মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্পটি এখনও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ঈদ মৌসুমে যাত্রীচাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের।


এদিকে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রী রুবেল জানান, যখন বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাসে উঠি তখন ভুরঘাটা আসার পর থেকেই ভয়ে কাজ করে। যে রাস্তায় এত সরু ও অবৈধ যানবাহনের কারণে কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে। ভয় নিয়েই ঢাকা যাই তাই সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি দ্রুত এই লাইন টাকে বড় করার জন্য।


পথচারী আলমগীর জানান, অবৈধ যানবাহন ও রাস্তায় এদিকে অনেক গাড়ি চলাচল করে আমাদের রাস্তা পার হতেও কষ্ট হয়।
এদিকে সার্বিক বাস চালক হুমায়ুন জানান, রাস্তা বড় এবং অবৈধ যানবহন বন্ধ করতে পারলে দুর্ঘটনা থেকে আমরা বাঁচতে পারব।
এদিকে অন্তরা পরিবহনের চালক শফিকুল জানান, ভুরঘাটা থেকে ভাঙা পর্যন্ত আমরা মৃত্যুর ভয় হাতে নিয়ে গাড়ি চালাই। রাস্তা এত ছোট যে দ্রুত গাড়ি চালাবো এক্সেটিং এর ভয়ে তাও চালাতে পারি না। এখানে মূল সমস্যা হলো এবং অবৈধ যানবাহন চলাচল কারণে বেশিরভাগই দুর্ঘটনায় এই রাস্তায় ঘটে। দ্রুত রাস্তা বড় এবং অবৈধ যানবাহন বন্ধের দাবি জানাই।
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সড়ক প্রশস্ত হয়নি। সরুসড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রতিনিয়ত যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার শিকারহচ্ছে। তিনি দ্রুত ব্যস্ততম এ মহাসড়কটি ফোরলেনে উন্নীত করার জন্য সকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


মস্তফাপুর হাই ওয়ে পুলিশেন ওসি মো.গোলাম রসুল বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অবৈধ যানবাহ চলাচল বন্ধেরজন্য কাজ করছি।এদিকে রাস্তা সরু ও অবৈধ পরিবহনের কারণে এরকম দুর্ঘটনা হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, সড়কটি উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কারা অর্থায়ন করবে সে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। তবে ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সড়ক বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের প্রত্যাশা, আসন্ন ঈদে যেন তারা নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন—সেজন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পড়ুন- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ

দেখুন- অনুসন্ধানী রিপোর্ট: বদলে যাচ্ছে যু/দ্ধে/র ধরন! 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন