কক্সবাজারের উখিয়ায় বিশেষ অভিযানের সময় উপজেলা তাঁতীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন সিকদারকে আটক করে ছেড়ে দিল পুলিশ, অথচ একই রাতে গ্রেফতার হলেন স্থানীয় সংবাদকর্মী তানভীর শাহরিয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে টহল দল উপজেলা সদর থেকে সালাউদ্দীনকে আটক করে। তবে শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে পরবর্তীতে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সালাউদ্দীনের হাতে ক্যানোলা লাগানো ছিলো, তাই অসুস্থতার কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, একই রাত ২টার দিকে ফলিয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় সাংবাদিক তানভীর শাহরিয়াকে। তার গ্রেফতারকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে। সহকর্মীরা অভিযোগ করে বলছেন, তানভীর একজন প্রতিবাদী সাংবাদিক হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উখিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সোহেল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন—
“আপনি হাসিনার দেওয়া ১১টি মামলার আসামী, ১৬ বছর ধরে সীমান্ত জনপদের সম্রাট আব্দু রহমান বদি ও জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর বিরুদ্ধে অকুতোভয়ে প্রতিবাদ করেছেন। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে লিখে যাওয়া কলম সৈনিক ছিলেন। আপনাকে সহযোদ্ধা বললেও ভালো রাখতে পারলাম না, ক্ষমা করবেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক প্রথমে তাঁতীলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে পরে স্বীকার করে জানান, “সে অসুস্থ থাকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।”
কিন্তু একজন সাংবাদিককে কেন এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হলো—এই প্রশ্নের জবাবে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি ওসি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও কেন গ্রেফতার করা হল একজন সংবাদকর্মীকে?
পড়ুন: ভর্তুকীর সারে উৎস কর নির্ধারণ না করার দাবি বিসিআইসি সার ডিলারদের
দেখুন: গাজীপুরে র্যাবকে উদ্ধার করলো সেনাবাহিনী!
ইম/


