অদ্ভুত এক দেশ উত্তর কোরিয়া। অদ্ভুত তার নিয়ম কানুন। নাগরিকদের জন্য আজগুবি সব আইন প্রণয়ন করে রেখেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। চুল কাটা থেকে শুরু করে ঘর সাজানো, সব কিছুতেই এদেশের মানুষদের ওপর থাকে সরকারি হস্তক্ষেপ।
তিন প্রজন্ম থেকে উত্তর কোরিয়া শাসন করে আসছে কিম জং উনের পরিবার। কিমের বানানো অদ্ভুত নিয়ম পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে দেশটিকে। এই দেশের নিয়ম কানুন শুনলে অবাক হয়ে যাবেন যে কেউ।
এই দেশের নাগরিকরা নিজের ইচ্ছামতো চুল কাটতে পারেনা। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ২৮ হেয়ার স্টাইলের বাইরে অন্য কোনো স্টাইলে চুল কাটলে জেলে যেতে হবে এখানকার পুরুষদের। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো এখানে বিবাহিত মেয়েরা বড় চুল রাখতে পারলেও অবিবাহিত মেয়েদের বড় চুল রাখা নিষিদ্ধ। এছাড়াও চুলে রংও করতে পারবেনা এখানকার নাগরিকরা।
উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের পোশাকেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সরকার থেকে। আমেরিকা, ইউরোপের কোম্পানির তৈরী টিশার্ট একেবারেই নিষিদ্ধ এখানে। এছাড়াও আঁটসাঁট জিন্স, ছেঁড়া জিন্স এগুলোও এখানে নিষিদ্ধ। এদেশের মানুষেরা এমন কোনো স্যুট পরতে পারবেনা, যা কিম জং উনের সাথে মিলে যায়। কিম জং উন চামড়ার ট্রেঞ্চ নামের বিশেষ ধরনের কোট পরেন। তাই দেশের কোনো নাগরিকের এধরনের কোট পরার অধিকার নেই।
উত্তর কোরিয়ার আরেকটি অদ্ভুত আইন হচ্ছে, এখানে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতে হয় তিন প্রজন্মকে। অর্থাৎ কেউ কোনো অপরাধ করলে সে সহ এর শাস্তি পাবেন তার বাবা-মা ও দাদা-দাদীও।
উত্তর কোরিয়ায় নাক বা ঠোঁট ফুটানোতেও রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। কেউ চাইলে শর্তসাপেক্ষে এক কান ফুটো করতে পারলেও কোনো অবস্থাতেই দুই কান ফুটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আরেকটি অদ্ভুত নিয়ম হলো সকল ধরনের নাচে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে দেশটির সরকার। উত্তর কোরিয়ায় কোনো ধরনের নৃত্যানুষ্ঠান আয়োজন করলে আয়োজককে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হয়।
কিম জং উনের দাদা কিম ইল সাং এর মৃত্যুবার্ষিকীতে সে দেশের নাগরিকদের উচ্চ স্বরে হাসি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই দিন কেউ জোড়ে হাসলে তার জেল হতে পারে।
উত্তর কোরিয়ায় প্রতিটি বাড়িতে কিম জং উনের একটি ছবি রাখা বাধ্যতামূলক। শুধু ছবি রাখাই নয়, নিয়মিত সেই ছবিটিকে পরিষ্কারও রাখতে হবে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই রাতে সেনাবাহিনীরা প্রতি বাড়িতে গিয়ে টহল দেয় যে কিমের ছবি আছে কিনা, আর তা পরিষ্কার কিনা। যদি কোনওভাবে ছবিতে ধুলো-ময়লা পাওয়া যায় তাহলে কড়া শাস্তির কবলে পড়তে হয় সেই পরিবারকে।
শুধু এই দেশের নাগরিকরা নয়, এই দেশে প্রবেশকারী বিদেশী নাগরিকদেরও কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকতে হয় এখানে। এখানে প্রবেশের সময় বিদেশী নাগরিকদের মোবাইল, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিভাইস থাকলে তার তল্লাশি চালার এখানকার সেনাবাহিনীরা। এছাড়াও এই দেশে কোনো ভ্রমণকারী চাইলেও গাইড ছাড়া একা ঘুরতে পারবেন না।
দেশ বা দেশের বাইরের বিভিন্ন খবরাখবর পেতে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেলিভিশন ও ইন্টারনেট পৃথিবীর অন্যসব দেশের জন্য স্বাভাবিক হলেও উত্তর কোরিয়ায় তা স্বাভাবিক নয়। সরকার নিয়ন্ত্রিত মাত্র চারটি দেখারই অনুমুতি রয়েছে দেশটির নাগরিকদের। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে দেশটির নাগরিকদের।
বর্তমান নেতা কিম জুং উন এবং তাঁর পরিবারের প্রতি পুরোপুরি আনুগত্য দেখিয়েই জীবন কাটাতে হচ্ছে দেশটির নাগরিকদের। দেশটির প্রত্যেক নাগরিকের ওপরই রয়েছে ব্যাপক নজরদারি। উত্তর কোরিয়ার সরকার যেন নিজেদের একটি আলাদা পৃথিবী বানিয়ে ফেলেছে, যা অন্য দেশগুলো থেকে ভিন্ন ও পিছিয়ে। অনেকে এই দেশটিকে কারাগারের সাথেও তুলনা করেন। তবে দিনশেষে এসব অদ্ভুত নিয়ম মেনেই জীবন কাটাতে হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দাদের।
পড়ুন: ময়মনসিংহে ২ শিশুসহ মাকে গলা কেটে হত্যা
দেখুন: বন্যায় ৫ জেলার সড়ক বেহাল, কক্সবাজার-বান্দরবানে নি হত ২০
ইম/


