পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলাধীন ৭নং সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বলেশ্বর নদীর পাড় সংলগ্ন বলতি চর এলাকায় ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কবরস্থান স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে কবরস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় জমি নির্ধারণ করে তা এলাকাবাসীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কবরস্থানের জমিতে মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি পুকুরও খনন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেখমাটিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে ভূমিহীন, গৃহহীন ও নিজস্ব জমিহীন অসহায় মানুষের জন্য কোনো স্থায়ী কবরস্থানের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কারও মৃত্যু হলে দাফনের স্থান নিয়ে স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বলতি চর সংলগ্ন দুইটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আবাসন এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক ভূমিহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশের নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্ট নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর পক্ষে রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলী সরদার জেলা প্রশাসক, পিরোজপুর বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কবরস্থানের জরুরি প্রয়োজনের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এলাকার পরিবারহীন ও অসহায় বৃদ্ধদের জন্য ভবিষ্যতে একটি বৃদ্ধা আশ্রম স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।
আবেদনের প্রেক্ষিতে নাজিরপুর উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে পরিদর্শন করে বলতি চর এলাকায় কবরস্থানের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে তা এলাকাবাসীর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে প্রাথমিক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়।
এলাকাবাসীরা জানান, এ উদ্যোগের ফলে বিশেষ করে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষরা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে কেউ মৃত্যুবরণ করলে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বৃদ্ধা আশ্রমটি বাস্তবায়িত হলে এটি পরিবারহীন ও অসহায় বৃদ্ধদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠবে। এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ উপজেলা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কবরস্থানের জন্য জমি নির্ধারণ ও প্রাথমিক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর চাহিদা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্যান্য মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ মানবিক উদ্যোগ এলাকায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই বৃদ্ধা আশ্রম স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে অসহায় ও অবহেলিত মানুষরা বাস্তব উপকার লাভ করবেন।
পড়ুন:মৌলভীবাজারে আন্ত:সংস্থাগত সমন্বয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মেজর জেনারেলের মতবিনিময়
দেখুন:‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেই ৫ বছরের কারাদণ্ড
ইম/


