ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বেঁচে নেই। খামেনিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন চলমান। প্রশ্ন উঠছে—একজন কেন্দ্রীয় নেতার অনুপস্থিতিতে কি একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা নতজানু হয়ে পড়ে? নাকি কাঠামোর ভেতর থেকেই উঠে আসে আরেকজন খামেনি?
জার্মানির ফিলিপস-ইউনিভার্সিট্যাট মারবুর্গ–এর মধ্যপ্রাচ্য অর্থনীতির অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজা ফারজানেগান সম্প্রতি আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলেন, লিবিয়া ও আফগানিস্তানের যুদ্ধের ফল সরলরৈখিক নয়। তা প্রায়ই অপ্রত্যাশিত ও দীর্ঘস্থায়ী অবক্ষয়ের সূচনা করে। খামেনির মৃত্যু একটি যুগের প্রতীকী ইতি টানতে পারে, কিন্তু ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে—এ ধরনের সহিংস ভাঙনের সম্ভাব্য ফল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয়, পুনর্গঠন নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাষ্ট্র কাঠামো কেবল একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং এটি ধর্মীয় নেতৃত্ব, নিরাপত্তা কাঠামো ও বিপ্লব-পরবর্তী আদর্শিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও কাঠামোগত শক্তি অটুট থাকতে পারে।
বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং স্বেচ্ছাসেবী আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আদর্শিক অবস্থান রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এই শক্তিগুলোর কট্টর অংশ নতুন কোনো ব্যবস্থাকে নিজেদের অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে দেখলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে সীমান্ত অঞ্চলে বালুচ, কুর্দি ও আরব জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অসন্তোষ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিচ্ছিন্নতাবাদী রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অধ্যাপক ফারজানেগান মনে করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত পরাক্রম সম্পর্কে অবগত। তবুও তারা যদি লড়াই চালিয়ে যায়, তবে তা নির্দেশ করে—রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে দৃঢ় প্রতিরোধ মনোভাব বিদ্যমান। এই বাস্তবতায় অনিরাপত্তা ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়লেও ক্ষমতার শূন্যতা সহজে তৈরি নাও হতে পারে।

ইতিহাস বলছে, কোনো এক খামেনি চলে গেলেও আদর্শ, কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান মিলে আরেকজন খামেনি তৈরি করে নিতে পারে। এসব কারণেই ইরানের ভেতর নিশ্চয়ই রয়েছে আরেক খামেনি। কারণ ইরানের একজন খামেনি লাগবেই।
পড়ুন: ১ মাসের জন্য ভিসার মেয়াদ বাড়ালো কাতার
আর/


