১৫/০১/২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
16 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

এক বছরে ভাবছি, দেখছি, কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না

আমরা দেখছি, হায় হায় করছি। আর ভাবছি কী হচ্ছে এইসব। আসলে যা হবার তাই হচ্ছে। গত দেড়দশক আমরা দেখেছি অনেক কিছু। হয়তো সয়ে গেছি। কিছু ঘটনায় মনে মনে গালি দিয়েছি। আবার মুখ বুজে সহ্য করেছি। সেই সহ্য করা জিনিসগুলোই একদিন আগুন হয়ে বের হলো। আর সেটাই জুলাই বিপ্লব। কিন্তু আমরা সেই জুলাই-আগস্ট পার হয়ে আর একটি বছর কাটিয়েছি। কিন্তু মনের গহীনে দেখা সেই বাংলাদেশ কী পেয়েছি। পায়নি। তার কিছু কারণ হয়তো সবাই জানি। আবার অনেক কারণ জানলেও বলতে পারছি না। তাই সরকারের এক বছরে ভাবছি, দেখছি, কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না।

বিজ্ঞাপন

আবার গণমাধ্যমে দেখলাম সেই আগের চিত্রই। শেখ হাসিনার আমলে এক দালালচক্র গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতো। সেই আমলের অবসান হওয়ার পর আমাদের মতো সাংবাদিকরা ভেবেছিলাম হয়তো একটা পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দেখা গেল কর্পোরেট জগতের দখলে থাকা গণমাধ্যমগুলো সেই আগের পথই বেছে নিলেন। যা হবার তাই হচ্ছে। সাংবাদিকদের নতুন নতুন দোকান খোলা হচ্ছে, কিন্তু ভালো ও মেধাবীদের মূল্যায়ন সেই আগের মতোই। সরকারও এক বছরে অনেক কথাই বলেছে, সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি।

সরকারের এক বছরে অনেকেই বলেন, অর্থনীতিতে সফল। কিন্তু কোথায় সফল। চড়া মূল্যস্ফীতি কমিয়ে জনগণকে স্বস্তি দেয়া, রিজার্ভ পরিস্থিতি উন্নতি ও ব্যাংক খাতে স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছর শেষ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। চেষ্টা করেছে কিন্তু এখনও বাজারের পরিস্থিতি নাগালের বাইরেই। মুখে বললে তো হবে না, বাস্তবে প্রতিফলন থাকতে হবে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকট ও ব্যাংকিং কার্যক্রমে এখনও রয়েছে জটিলতা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগে চাঞ্চল্য ফেরানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি।

সরকারি হিসেবে, এক বছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সাড়ে ১১ শতাংশ থেকে নেমেছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে। আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে কমেছে প্রায় অর্ধেক। যদিও সাধারণ মানুষ বলছেন, দ্রব্যমূল্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তবে কয়েক কয়েকমাস ধরে ফের বাড়তে শুরু করেছে। এতে বেড়েই চলেছে জীবনযাত্রার ব্যয়।

এই এক বছরে সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলো আলাদা আলাদা করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। সুশীল সমাজ বা নাগরিক সমাজের বিশ্লেষকরা নিজ নিজ মূল্যায়ন করছেন। কিছু বিষয়ে সবার মত এক—গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছিল এবং সরকার তা এখন পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। ‘মব জাস্টিস’ নামক ভয়াবহ অরাজকতা দেখা দেয় সারা দেশে, যা এখনো ঘটছে। এ নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। গতকালই একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে, কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কয়েকদিন পর পরই এমন ঘটনা ঘটছে। মনে হচ্ছে, কেউ চাইলেই এমন ঘটনা ঘটাতে পারছে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। যদিও সরকার জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করায় এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তার মানে তারা মনে করছে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কেটে গেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী যদিও এ বিষয়ে এখনো স্বস্তিতে নেই। নির্বাচন ইস্যুতে ‘বড় দল’কেই কেবল গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার- এমন সমালোচনা করছে তারা। তাছাড়া গণহত্যার বিচার ও সংস্কার ইস্যুতে গুরুত্ব না দিয়ে নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও সমালোচনা করছে তারা। তাহলে কী বিএনপির কথা মতোই চলছে এই সরকার। এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক দল, ছাত্র-শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের দাবিদাওয়া নিয়ে লাগাতার আন্দোলনের মুখে পড়ে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে এসব পরিস্থিতি দক্ষভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাটও রোধ করা যায়নি। ফলে সার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সামনে নির্বাচনের মৌসুমে সরকার কীভাবে এসব হ্যান্ডেল করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সরকার নির্বাচনের কথা বললেও ভোটের পরিবেশ অনিশ্চিত। ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে মানুষ নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গত এক বছরে স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি নেই বললেই চলে, কিছু বিষয়ে সমালোচনাও উঠেছে। আহতদের তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত আহতরা বাদ পড়লেও রাজনৈতিকভাবে কাছের অনেকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। সরকারি হাসপাতালে সেবার মান, ওষুধ ঘাটতি ও হয়রানি—পুরোনো সংকট এখনো কাটেনি। লাইসেন্সহীন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু থাকলেও নজরদারি দুর্বল।

পদায়নে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ থাকায় আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বাজেটের অধিকাংশই চলে যাচ্ছে নগরকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে, গ্রামীণ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা এখনো উপেক্ষিত। ট্রান্সপ্ল্যান্ট নীতি ও আইন বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গেছে, ফলে দেশের মধ্যে উন্নত চিকিৎসা সক্ষমতা গড়ে তোলা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ওষুধের গুণমান ও মূল্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল।

পড়ুন : ব্যাংক খাতের উন্নয়নে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন