রাত পেরোলে ঈদুল আযহা। তবে এরই মধ্যে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। ঈদ আনন্দকে নিজ নিজ আঙ্গিনায় আবদ্ধ করতে ব্যস্ত প্রত্যেকেই। কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছে, যাদের ঈদ আছে কিন্তু আনন্দ নেই। এদের মধ্যে রয়েছে এতিম শিশুরা। কেননা, ঈদের আনন্দ নতুন জামায় নয়, নয় হাজারো মজাদার খাবারের সমারোহে। পরিবার ছাড়া ঈদ আনন্দের সার্থকতাই বা কোথায়? এই সমাজে এতিমদের ঈদ আনন্দ অনেকটা সাদামাটা। এতিমখানার শিশুরা তাকিয়ে থাকে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার দিকে। ঈদকে ঘিরে প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম সহযোগিতা পায় তারা।
চাঁদপুর জেলার খুলিশাঢুলি এলাকায় রয়েছে শিশু পরিবার। সেখানে মোট ১০০ জনের অধিক মেয়ে শিশু থাকে। যাদের কারও বাবা নেই, কারও আবার মা নেই। আবার কারও বাবা-মা কেউই নেই। তাদের এ দেখার কেউ নেই। তাই ঈদও উদযাপন করে এতিমখানাতেই।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিজয়ীর ফাউন্ডার নিজ হাতে রান্না করা খাবার নিয়ে হাজির হন সরকারি শিশু পরিবারে। বাদ জুমা বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান নিজ হাতে শিশু পরিবারের মেয়েদের কে খাবার বেড়ে দেন এবং সে নিজেও তাদের সাথে দুপুরের খাবার গ্রহন করেন। এসব খাবার পেয়ে শিশুদের চোখে-মুখে যেন উচ্ছ্বাসের ছাপ। শিশুদের সাথে গল্প করেন, তাদের সাথে গান করেন। আপনজন না থাকার বেদনা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে।
এতিমখানার পরিচালকের বরাত দিয়ে তানিয়া ইশতিয়াক খান জানান, সেখানে ১০০ জনের অধিক শিশু থাকে। যাদের যাওয়ার জায়গা নেই। তাদের জন্য এতিমখানাটিতেই রান্না করা হয়। ওরা সেখানেই ঈদ উদযাপন করবে।
তানিয়া ইশতিয়াক খান বলেন, এতিম শিশুদের ঈদের আনন্দে আমরা শরিক হতে পেরেছি। তাদের হাসির কারণ হতে পেরেছি। এটা অনেক বড় পাওয়া। সমাজের বিত্তবানরা যদি তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন, তবে ঈদটা সুন্দরভাবে তারা উদযাপন করতে পারবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজয়ী এর স্বপ্নদ্রষ্টা আশিক খান, সরকারি শিশু পরিবার চাঁদপুর এর তত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ছায়েফ উদ্দিন, সহকারী তত্বাবধায়ক মোঃ আনোয়ার হোসেন, গ্যাজুয়েট শিক্ষক মোঃ আনিস ভূইয়া, টিম বিজয়ী এর ভলেনটিয়ার কান্তা দে,সূচনা আক্তার,বিজয়া,রুবাইয়া আক্তার,মুন্নি, সৃষ্টিসহ সদস্যবৃন্দ।
পড়ুন : চাঁদপুরে ২শ’ ড্রামের ওপর ধনাগোদা নদীতে ভাসমান রেষ্টুরেন্ট


