বিজ্ঞাপন

এনসিপির নিবন্ধন আবেদনে ছয় ঘাটতি, সংশোধনের জন্য ইসির চিঠি

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) করা আবেদনে ছয়টি বিষয়ে ত্রুটি বা ঘাটতি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক যাচাইয়ে পাওয়া এসব ত্রুটি সংশোধন করে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে উপযুক্ত দলিল দাখিল করতে দলটিকে চিঠি দিয়েছে ইসি।

এসব ঘাটতি নিয়ে ইতোমধ্যে ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার উপ-সচিব মো. মাহবুব আলম শাহ এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। নিবন্ধন চেয়ে দলটির করা আবেদন প্রাথমিক বাছাইয়ে এমন ত্রুটি পেয়েছে নির্বাচন কমিশনে। ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে দলটিকে ১৫ দিন সময় দিয়েছে সংস্থাটি।

ইসি চিঠিতে জানায়, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’ নামীয় দলের গত ২২ জুন দাখিল করা আবেদন নির্বাচন কমিশনে যাচাই করা হয়েছে। ওই আবেদন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮, বিজ্ঞপ্তি ও ফরম পূরণের নির্দেশিকার আলোকে যাচাই করে প্রাথমিকভাবে নিম্নরূপ ত্রুটি/ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়–

১. ঠিকানাসহ দলের সব কার্যকর জেলা দপ্তরের তালিকা দেওয়া হয়নি; ঢাকা ও সিলেট জেলা দপ্তরের ভাড়া চুক্তিপত্রে দলের নাম উল্লেখ নেই।

২. ঠিকানাসহ সব উপজেলা/থানা দপ্তরের তালিকা দেওয়া হয়নি; ২৫টি উপজেলা/থানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোটার (ন্যূনতম ২০০ জন) সদস্যের অন্তর্ভুক্তি পাওয়া যায়নি (কিছু উপজেলা/থানার বইয়ে অন্য উপজেলা/থানার ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে একই ভোটারকে বারবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ডিমলা উপজেলায় প্রায় ২০ জন সদস্যের এনআইডি নম্বর পাওয়া যায়নি)।

৩. ইটনা উপজেলার ভাড়া চুক্তিপত্রে দলের নাম উল্লেখ নেই; হালুয়াঘাট উপজেলার ভাড়া চুক্তিপত্রে দলের নাম ও অফিসের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি।

৪. আবেদন ফরম-১ এর ফিল্ড নং ৯-এ তহবিলের পরিমাণ উল্লেখ নেই; আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত তহবিলের উৎসের বিবরণীতেও তহবিলের পরিমাণ উল্লেখ নেই।

৫. নিবন্ধনের বিষয়ে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের অনুলিপির শেষ পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর নেই।

৬. দলের গঠনতন্ত্রে-গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৯০৭(১)(খ) (ঈ) অনুসারে আবেদনকারী দলের গঠনতন্ত্রে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা বা ক্ষেত্রমত, জেলা কমিটির সদস্যগণ কর্তৃক প্রস্তুত প্যানেল থেকে দলের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড কর্তৃক বিবেচনা পূর্বক সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করার বিধান রাখা হয়নি।

৭. দলটির কোনো দলিল বা কার্যক্রম সংবিধান পরিপন্থি নয় এবং দলে Bangladesh Collaborator (Special Tribunals) Order, 1972 এবং International Crimes (Tribunals) Act, 1972 এর অধীন দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি নেই বলে দলের প্রধানের ইস্যু করা প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করা হয়নি।

৮. দলের গঠনতন্ত্র গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৯০খ(১)(খ) ও ৯০(১) এর বিধান অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সংশোধিত গঠনতন্ত্র দাখিল করা আবশ্যক।

৯. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৯০ক, ১০২, ১০গ ও ৯০২, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৪, ৫ ও ৬, বিজ্ঞপ্তি ও ফরম পূরণের নির্দেশিকার শর্তাদি প্রতিপালনের নিমিত্ত আবেদনের ত্রুটি/ঘাটতি সংশোধনক্রমে প্রামাণিক দলিল দাখিল করা আবশ্যক।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিধি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দল কর্তৃক উপরে বর্ণিত ত্রুটি/ঘাটতি সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংশোধন (যদি থাকে) এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দলের দাখিল করা তথ্য ও দলিলসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা/থানা দপ্তরগুলোতে সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, গত ২২ জুন পর্যন্ত ১৪৪টি দলটি ১৪৭টি আবেদন দাখিল করে। প্রাথমিক যাচাইয়ে কোনো দলই পাস করতে পারেনি। তাই সবাইকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন পেতে ইচ্ছুক দলের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি, এক তৃতীয়াংশ জেলা ও ১০০টি উপজেলা কমিটি এবং প্রতিটি কমিটিতে ২০০ ভোটারের সমর্থনের প্রমাণ থাকতে হয়। এছাড়াও কোনো দলের কেউ আগে সংসদ সদস্য থাকলে বা আগের নির্বাচনে পাঁচ শতাংশ ভোট পেলেও নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়। এই প্রধান শর্তগুলো ছাড়াও বেশকিছু নিয়মকানুন মেনে আবেদন করতে হয়। প্রাথমিক বাছাইয়ে এসব নিয়মকানুনই সাধারণত খেয়াল করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, রণক্ষেত্র গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন