এনসিপি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার যুগ্ম সমন্বয়ক আল আমিন সৈকতের বিরুদ্ধে মামলা করা মুন্নী নামের ওই নারী জুলাই মঞ্চের পদবী ধারী কোন নেত্রী নন বলে জানিয়েছেন জেলা জুলাই মঞ্চ কামাঠোর আহ্বায়ক ও জেলা গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসাইন।
৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জাকির হোসাইন।
তিনি বলেন, জোসনা মুন্নী হতে পারে এনসিপি নেত্রী। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ বিভিন্ন গ্রুপে ঢুকে ছেলের সাথে সম্পর্কে লিপ্তের খবর পাচ্ছি। সে এনসিপি নেত্রী বা ওই সংগঠনের কোন পদে থাকতে পারে। তবে এই নারী জুলাই মঞ্চের কোন পদবীতে নেই। তাই গণমাধ্যমে ওই নারীকে দয়া করে জুলাই মঞ্চের নেত্রী উল্লেখ না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
এদিকে এনসিপি নেতা সৈকত কে গ্রেফতারের পর মামলা দায়ের করা ওই নারীর ফোনে রাতে কল দিলে তার মা ফাতেমা জানান, আমার মেয়ে কই আছে জানিনা।
মেয়ে এতো রাতে বাহিরে? আপনি মা হয়ে কিছুই জানেন না? প্রশ্নে তিনি বলেন, মেয়ে আমাকে কখন কই যায় কিছুই বলেনা। শুনছি ওর বোনের বাড়ীতে নাকি কোথাও ঘুরতে যেতে পারে।
এদিকে এনসিপির একটি মহল বলছে, চাঁদপুর শহরের রহমতপুর কলোনীতে এক আইনজীবীর চেম্বারে স্থানীয় এক বৈঠকের সিদ্ধান্তে আড়াই লক্ষ টাকা সৈকতের পরিবার জেলা এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলমের কাছে গত ৫ অক্টোবর মেয়ের পরিবারকে দিতে পৌছে দেয়। এরপর সৈকত ঘটনা শেষ ভেবে নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়ীতে অবস্থান নেয় এবং মেয়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে সেই আড়াই লাখ টাকা মাহাবুব নিজের কাছে গচ্ছিত রেখে মেয়ের পরিবারকে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মেয়ের পরিবার দাবী করে ১০ লাখ টাকা অথবা সৈকত যাতে মুন্নীকে বিয়ে করে। আর তা নিয়ে সৈকতকে জানালে সে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি মামলা ও গ্রেফতার পর্যন্ত গড়ায়। বর্তমানে ছেলের পরিবারের দেয়া পুরো আড়াই লাখ টাকা জেলা এনসিপির নেতা মাহাবুব আলমের কাছে রয়েছে।
জানা যায়, হাসিনা সরকারকে পতন ঘটানোকালে ফেসবুক পোষ্ট থেকে পরিচয় হয় মুন্নী এবং সৈকতের। এরপর মুন্নীর সাথে সৈকত একাধিকবার ফেসবুক থেকে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়ে সাংগঠনিক কথোপকথন বলতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং প্রেমে লিপ্ত হন। এরপর দিনে রাতে ভিডিও কলে ঘনিষ্ঠ আলোচনায় দুজনে লিপ্ত হন। যার বেশ কিছু স্কীনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এরমধ্যে সৈকতের সাথে দেখা করতে মুন্নী একদিন চাঁদপুর আসে। পরে বড়ষ্টেশন মোলহেডসহ নানা স্থানে ঘুরাঘুরি শেষে মুন্নীকে সিএনজি যোগে কচুয়ার রহিমানগর পৌছে দিতে গিয়ে সৈকত সিএনজিতে মুন্নীর সাথে ঘনিষ্ট মুহুর্ত কাটায় এবং নিজের হাত দিয়ে মুন্নীর গোপনাঙ্গে স্পর্শ করে তাকে উত্তেজিত করে। আর এরপরই বাসায় পৌছে মুন্নী নিজেকে সামলাতে না পেরে মুঠোফোনে সৈকতকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে সটকে পড়ে সৈকত। আর তারপরই এই মামলা পর্যন্ত যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। আর এতে জেলা জুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।
২৯ অক্টোবর বুধবার রাতে এনসিপি নেতা সৈকতকে জেলে প্রেরণের তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ্ আলম।
থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্ক থেকে অনৈতিক কার্যকলাপ ও এক পর্যায়ে বিয়ের দাবিতে সৈকতের বাড়িতে অনশনের পরও সৈকত বিয়ে না করায় তার বিরুদ্ধে আদালতে নারী ও শিশু নিযার্তন আইনে মামলা (নারী শিশু মামলা-৩৪৭/২০২৫ ) দায়ের করেন মুন্নী। সেই মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হিসেবে সৈকতকে বুধবার সন্ধ্যায় গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া গ্রামের নিজ বাসা হতে গ্রেফতার করা হয়। মামলার বাদী ওই নারী চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার রহিমানগরের বাসিন্দা।
সৈকতের এলাকার বাসিন্দারা জানান, মেয়েটি বেপোরোয়া এবং খারাপ চরিত্রের। সে রাত বিরাতেও বাহিরে থাকে এবং একাধিক ছেলের সাথে সোশাল মিডিয়ায় যোগাযোগ রাখে। আর এসব বিষয় সৈকত জেনে যাওয়ায় মেয়েটির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে। পরে মেয়েটি ৫ অক্টোবর সৈকতের শ্রীকালিয়া গ্রামের বাড়ীতে তার গলায় ঝুলে পড়তে বিয়ের দাবীতে অবস্থান নেয়। দুই দিন অনশনের খবর জেলা পর্যায়ের এনসিপি নেতা মাহবুব জানলে তার মাধ্যমে এটির সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে জোসনা মুন্নি নামে ওই নারী গণমাধ্যমকে বলেন, আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছে এনসিপি নেতা সৈকত। আমিও একজন জুলাই যোদ্ধা। এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাই। আমাকে এখনো তাদের দলের নেতারা ফোনে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে।
এদিকে এ ঘটনায় চাঁদপুর জেলা এনসিপির সমন্বয়ক মাহাবুব আলম বলেন, এটি নিয়ে দরবারে বসেছিলাম। সেখানে মেয়ের পরিবারকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হলে, মেয়ে পক্ষ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। সেই টাকা আমার কাছে রয়েছে। মেয়েকে আমরা চ্যালেন্জ করেছিলাম তাকে ধর্ষণ করার সত্যতা থাকলে সৈকতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু ধর্ষণের তথ্য সত্য নয় বলে মেয়েটি সে চ্যালেন্জে রাজি হয়নি। তখনই বুজা গেছে মেয়েটির উদ্দ্যেশ্য খারাপ। তার পূর্বেও বিয়ে হয়েছে এবং যে তথ্য সে সৈকতের কাছে গোপন করেছিলো। মেয়েটি নানা স্থানে এনসিপি নেত্রী পরিচয় দেয়ার অভিযোগ এলেও আমি এটি নিশ্চিত করতে চাই সে এনসিপির কোন পদ-পদবীতে নেই এবং কখনও ছিলোওনা। মেয়েটি উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত হয়ে এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতেই এই ধরণের মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়েছেন। যদিও কোন ব্যাক্তির দায় সংগঠন কখনই নেবে না।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, এনসিপি নেতা সৈকতের বিরুদ্ধে নারী শিশু মামলা-৩৪৭/২০২৫ হয়। তার পিতা হচ্ছেন মৃত রফিকুল ইসলাম। মামলার সুবাদেই ফরিদগঞ্জের ৫নং গুপ্টি ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের শ্রী কালিয়া গ্রামের সৈকতের নিজ বাসা হতে তাকে গ্রেফতার করেছি।
পড়ুন : চাঁদপুরের বিনিময় নাট্ট গোষ্ঠীর সভাপতি বাহার, সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল


