জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ‘মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়’ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। এতে মৌলভীবাজারের সাধারন ছাত্র-জনতার মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁরা এই সমন্বয় কমিটি প্রত্যাখান করেছেন। নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও, জেলা জুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
শুক্রবার (২০ জুন) রাত ১০টায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে কমিটি প্রত্যাখান ও আওয়ামীলীগ পুনর্বাসনের দায়ে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব প্রীতম দাসকে মৌলভীবাজারে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল করেন সাধারণ ছাত্র-জনতা। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দরাও উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ মিছিলে প্রীতম দাসের বিরুদ্ধে এনসিপি’র আড়ালে আওয়ামীলীগ পুনর্বাসন ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে বক্তব্য রাখেন সাধারণ ছাত্ররা। তাঁরা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত যোদ্ধা বা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই রাতের আঁধারে বিতর্কিতদের নিয়ে এই সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সহযোগীতা করেছেন প্রীতম দাস, এ বিষয়ে ছাত্ররা প্রতিবাদ করলে তাদের মামলা-হামলার হুমকি দেন তিনি। ছাত্ররা বলেন এই কমিটিকে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। জেলা সমন্বয় কমিটির তালিকা দেখে আমরা অবাক হই কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীসহ অন্যান্য সদস্যদের নাম দেখে। কমিটিতে আওয়ামীলীগ ও তাদের সহসংগঠনের একাধিক নেতা রয়েছেন, অন্যদিকে কমিটির বেশিরভাগই আমাদের অপরিচিত, যাদের বিগত আন্দোলন সংগ্রামে আমরা দেখিওনি। এ বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত করা হয়েছে, এটি পকেট কমিটি উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, আমরা এই কমিটিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছি পাশাপাশি দ্রুত কমিটি বাতিল করে পুনর্গঠনের দাবিও জানাচ্ছি।
জানা গেছে, সমন্বয় কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছে ফার্মেসি ব্যবসায়ী খালেদ হাসানকে। যুগ্ম সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রাখা হয়েছে নয় জনকে। তারা হলেন ফাহাদ আলম, এহসান জাকারিয়া, মো: ইকবাল হোসেন, রুমন কবির, শামায়েল রহমান, নিলয় রশিদ, সানাউল ইসলাম সুয়েজ, শাহ মিসবাহ ও সৌমিত্র দেব। এছাড়া এডভোকেট কৌশিক দে, জাহাঙ্গীর আলম, ভীমপল সিনহা, রাসেল থিংগুজাম, বৈশিষ্ট্য গোয়ালাসহ ২১ জনকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী তিন মাস অথবা নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পূর্ব পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ১৮জুন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের যৌথ স্বাক্ষরে এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম যুগ্ম সমন্বয়কারী ফাহাদ আলম ও সদস্য বৈশিষ্ট্য গোয়ালার ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার পরিচয় তুলে ধরেছেন অনেক ছাত্ররা। আওয়ামীলীগের নির্বাচন, বিভিন্ন মিছিল ও সভায় তাদের অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে।
এদিকে নতুন প্রধান সমন্বয়কারী খালেদ হাসান নিজেকে একজন ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বলেন,কমিটির বেশির ভাগ সদস্যরাই ব্যবসায়ী, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানের। আওয়ামীলীগ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি নিজেও অবগত নন এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেই তাদের নাম অনুমোদন করা হয়েছে। জেলার রাজনীতিতে এনসিপির অবস্থান আর সুদৃঢ় করতে সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন কিংবা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে জেলার আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলেন তাঁরাই নেই এখন জেলার এনসিপির কমিটিতে। উল্টো ব্যবসায়ী আর বিতর্কিতরাই রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করে নিচ্ছেন এনসিপিতে। এতে নতুন এই দলের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে জেলা পর্যায়ে চলছে নানা সমালোচনা। ছাত্র-জনতা বলছেন, এখনই সময় স্থানীয় পর্যায়ে দলকে জনমূখী করতে, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দল থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
পড়ুন: ত্রিপক্ষীয় জোটে চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান
দেখুন: আবার বেদখল তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ড সড়ক
ইম/


