চলতি বছর বুকার পুরস্কার পেয়েছেন হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক ডেভিড সালাই। ‘ফ্লেশ’ নামের উপন্যাসের জন্য তাকে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। বিচারকদের মতে, উপন্যাসটিতে অভিবাসন, শ্রেণি, মানসিক আঘাত ও ক্ষমতার মতো জটিল বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (১০ নভেম্বর) লন্ডনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এবারের বুকুর পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।
মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের অংশ হিসেবে ৫০ হাজার ইউরো পাবেন সালাই। তিনি এর আগে ২০১৬ সালে তার ‘অল দ্যাট ম্যান ইজ’ উপন্যাসের জন্য বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন।
বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি রডি ডয়েল বলেন, অন্য সব বিচারকও সালাইয়ের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। বিচারকদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী সারা জেসিকা পার্কার, লেখক ক্রিস পাওয়ার, আয়োবামি আদেবায়ো ও কাইলি রিড।
রডি ডয়েল আরও বলেন, সাহিত্যের আলোচনায় সাধারণত শ্রমজীবী মানুষের শ্রেণি সংঘাত জায়গা পায় না। কিন্তু সালাই তার লেখায় সে গল্প তুলে ধরেছেন। বিচারকদের মতে, তারা এ ধরনের লেখা এর আগে পড়েননি।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইস্তভান। গল্পের শুরু হয় হাঙ্গেরির একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে, যেখানে মায়ের সঙ্গে বসবাসকারী কিশোর ইস্তভানের জীবনে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে। এরপর সালাই পাঠককে নিয়ে যান ইস্তভানের সামরিক জীবনে। ঘটনাচক্রে ইস্তভান এক সময় লন্ডনের সম্পদশালীদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পান।
চলতি বছর বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আরও ছিল অ্যান্ড্রু মিলারের ‘দ্য ল্যান্ড ইন উইন্টার’, কিরণ দেশাইয়ের ‘দ্য লোনলিনেস অব সোনিয়া অ্যান্ড সানি’, সুসান চোইয়ের ‘ফ্ল্যাশলাইট’, কেটি কিতামুরার ‘অডিশন’ এবং বেন মার্কোভিটসের ‘দ্য রেস্ট অব আওয়ার লাইভস’।
হাঙ্গেরিয়ান বাবা ও কানাডীয় মায়ের পরিবারে সালাইয়ের জন্ম। তিনি বেড়ে উঠেছেন লন্ডনে। বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় বসবাস করছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ করার পর সালাই একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় ‘সেলস এক্সিকিউটিভ’ হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার লেখা অন্য উপন্যাসের মধ্যে আছে, লন্ডন অ্যান্ড দ্য সাউথ-ইস্ট, স্প্রিং ও দ্য ইনোসেন্ট।
এর আগে বুকার পুরস্কার জেতেন ভারতীয় লেখক বানু মুশতাক ও অনুবাদক দিপা ভাস্তি। চলতি বছরের ১৯ মে বিজয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। কন্নড় ভাষায় রচিত ছোটগল্প গ্রন্থ হার্ট ল্যাম্প-এর জন্য বিশেষ এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বানু মুশতাক। আর বইটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে পুরস্কার জিতেছেন দিপা ভাস্তি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

