তারা আমাদের রঙিন পর্দার রাণী। যাদের হাসিতে ভরে উঠেছে সিনেমা হল, যাদের চোখে প্রেমে পড়েছে পুরো একটা প্রজন্ম। কিন্তু পর্দার আলো নিভলেই, ব্যক্তিজীবনে তারা কেউ কেউ মুখোমুখি হয়েছেন অন্য এক বাস্তবতার—যেখানে প্রেম ছিল, সন্তান ছিল, কিন্তু টেকেনি সম্পর্ক। তারা আজও একা, আবারও বিয়ের পথে হাঁটেননি।
২০০৮ সালে গোপনে বিয়ে করেছিলেন ঢালিউড কিং শাকিব খানকে। ক্যারিয়ার আর সংসার—দুটোই চলছিল সমান্তরালে। সন্তানসহ প্রকাশ্যে আনেন সেই সম্পর্ক, কিন্তু শাকিব ততদিনে পিছিয়ে যান। তিন মাসের মধ্যে বিচ্ছেদ। আজ অপু বিশ্বাস একজন সিঙ্গেল মাদার—ছেলে জয়ই তার পৃথিবী। আর বিয়ে? এখন আর তার তালিকায় নেই।
শাকিবের সঙ্গেই বুবলীর গোপন বিয়ে ২০১৮ সালে। ২০২০-এ পুত্র সন্তানের জন্ম, ২০২২-এ নিজেই ফেসবুকে প্রকাশ করেন সেই খবর। কিন্তু সম্পর্কটা বেশিদিন টেকেনি। আজ তিনি একা—অভিনয়ে ব্যস্ত, আর জীবনে নতুন কাউকে জায়গা দিতে আপাতত অনাগ্রহী।

মাহি একধাপে দুই সংসার ভেঙে এখন একা। প্রথম স্বামী পারভেজ মাহমুদ অপু, এরপর রাজনীতিক রকিব সরকার। একটি সন্তান আছে তাঁরও। এখন তিনি সিনেমা, ধর্ম ও সন্তান নিয়েই জীবন সাজাচ্ছেন—তৃতীয়বার ঘর বাঁধার কোনো ইঙ্গিত নেই।
ঢালিউডের আলোচিত মুখ পরীমণি—বিয়ের তালিকা যেমন লম্বা, তেমনি আলোচনাও। সবশেষ শরীফুল রাজের সঙ্গে সংসার। রাজ্যের মা হওয়ার পরও বাঁচেনি সেই সম্পর্ক। ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স। এখন আবারো সিঙ্গেল—কিন্তু ভাঙা নন।
২০১৯-এ কানাডার ব্যবসায়ী হিশাম চিশতিকে বিয়ে করেছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী তমা মির্জা। দুই বছরেই বিচ্ছেদ। তারপর থেকে নতুন কারও সঙ্গে সম্পর্ক তো নয়ই—নিজের মতোই থাকছেন তিনি।
নব্বইয়ের দশকের শাবনূর, পূর্ণিমা ,মৌসুমী, কিংবা পপি—তাদের জীবনেও এসেছে সম্পর্কের ভাঙন। তবু এই তারকারা কেউ থেমে থাকেননি। কারও কাঁধে সন্তান, কারও চোখে ক্যামেরার আলো—কিন্তু নতুন করে ঘর বাঁধা নয়। তারা এখন নিজের জীবনটাই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। তারা একা, কিন্তু ভাঙা নন।
ঢাকাই সিনেমার এই পাঁচ রানীর গল্পে আছে বেদনা, সাহস আর নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার শক্তি। তারা হয়তো আজ একা, কিন্তু তাদের জীবন ঠিকই বর্ণময়। একা থাকাও যে একধরনের শক্তি, সেটা এরা প্রতিদিন প্রমাণ করছেন।
পড়ুন : বুবলীর কর্মকাণ্ড দেখে অপু বিশ্বাসকে যা বলেন শাকিব খান


